রাজধানী ঢাকায় একটি সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে যেখানে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয় এবং প্রায় ৬০ শতাংশ শিশুর জন্ম হয় অস্ত্রোপচারের (সিজারিয়ান) মাধ্যমে, সেখানে অত্যন্ত সাশ্রয়ী খরচে চমৎকার সেবা পেয়ে নজর কেড়েছে ঢাকার মোহাম্মদপুরের সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’ (১০০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুস্বাস্থ্য হাসপাতাল)।
মোহাম্মদপুরের স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক নাজমুন নাহার সম্প্রতি সেখানে মাত্র ৭৫ টাকা মোট খরচে তার দুই কন্যাসন্তানের সফল প্রসব করিয়েছেন। নিজের এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রথম সন্তানের সময় ২০২১ সালে মাত্র ১০ টাকার আউটডোর টিকিট কেটেছিলেন এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় সন্তানের জরুরি সেবার জন্য তাকে কাটতে হয় ৬৫ টাকার টিকিট। এই ৭৫ টাকা টিকিটের বাইরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রসবের জন্য অতিরিক্ত কোনো অর্থ নেয়নি।
অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ওই শিক্ষক জানান, গর্ভাবস্থার শুরুতে তিনি প্রাইভেট চেম্বারে গিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা ও হাজার হাজার টাকা ব্যয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। পরবর্তীতে বাড়ির কাছের এই সরকারি হাসপাতালে এসে তুলনামূলক অনেক কম সময়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের আন্তরিক পরামর্শ পান। শুধু তা-ই নয়, গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ভিটামিন ওষুধও হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।
হাসপাতালটির চিকিৎসা পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, সেখানে স্বাভাবিক প্রসবে (নরমাল ডেলিভারি) সর্বোচ্চ উৎসাহিত করা হয়। অভিজ্ঞ ও দক্ষ মিডওয়াইফরা পরম যত্নে প্রসব সম্পন্ন করান। কোনো জটিলতা তৈরি হলেই কেবল বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।
দুই সন্তানের জন্মের পরই মাত্র এক রাত হাসপাতালে থেকে সুস্থ অবস্থায় হেঁটে বাড়ি ফেরেন তিনি। সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের নানা ক্ষোভ থাকলেও সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকেই এসব সুলভ ও মানসম্মত সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তিনি মনে করেন।

