বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী নিতে আগামী মাসেই এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে ইতালি সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় ইতালিতে গমনেচ্ছুক আগ্রহীদের ইতালীয় ভাষা, দেশটির সংস্কৃতি, সামাজিক আচার-আচরণ এবং কাজের জন্য আবশ্যকীয় কারিগরি ও ব্যবহারিক দক্ষতা শেখানো হবে। নিবিড় প্রশিক্ষণ শেষে উত্তীর্ণদের জন্য ইতালিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। বৈঠকে ইতালির দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ফেদেরিকো জাম্পারেলিও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে অনিয়মিত অভিবাসন নিরুৎসাহিত করে ইউরোপে বৈধ পথে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়াতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে ইতালিগামী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং ভিসা কোটা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত জানান, সরকারের তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির দূরদর্শী নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই বিশেষ প্রশিক্ষণ রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন এবং পেশাগত দক্ষতার সাথে ইতালির শ্রমবাজারে অবদান রাখতে পারবেন। ইতালিতে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
ইতালির এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানো এবং তরুণ প্রজন্মকে বিদেশি ভাষায় পারদর্শী করে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। ইতালির সরকারের বিশেষ এই কারিগরি ও ভাষা প্রশিক্ষণ উদ্যোগ দক্ষ মানবল সম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

