আগামী প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মা-মেঘনা নদীতে মা ইলিশ শিকার করলে সংশ্লিষ্ট জেলেদের কমপক্ষে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সরকারি জেলে কার্ড স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা মৎস্য দপ্তর আয়োজিত ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ উপলক্ষে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান এই কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দেন।
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও সরকারের বিশেষ সহায়তামূলক পদক্ষেপ
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
-
জেলেদের খাদ্য সহায়তা: নিষেধাজ্ঞার সময়ে চাঁদপুরের চিহ্নিত ৪১ হাজার ৩ ৯০ জন নিবন্ধিত জেলের প্রত্যেককে সরকারিভাবে ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।
-
ঋণের কিস্তি স্থগিত: প্রজনন সময়ে জেলেরা যাতে কোনো ধরনের আর্থিক বা ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে না পড়েন, সে বিষয়ে এনজিও ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
অভিযান পরিচালনায় নিরাপত্তা ও কঠোর কৌশল
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা নদীর প্রায় ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।
১. অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও খালের মুখ বন্ধ: নিরাপত্তা নিশ্চিতে নদীতে ৫টি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এছাড়া চোরাগোপ্তা মাছ ধরা ঠেকাতে অভয়াশ্রম এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ৮ থেকে ৯টি খালের মুখ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হবে।
২. বরফকল ও ড্রেজার বন্ধ: ২২ দিন চাঁদপুরের সব বরফকল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে এবং নদীতে যেকোনো ড্রেজিং কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
৩. বহিরাগত জেলে রোধ ও কুইক রেসপন্স টিম: বহিরাগত জেলার জেলেরা যাতে অবৈধভাবে সীমারেখায় প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও নৌপথে চেকপোস্টের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ প্রস্তুত থাকবে।
জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের যৌথ সমন্বয়ে জেলাজুড়ে এই সাঁড়াশি অভিযান সফল করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

