আসন্ন সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ মূলনীতি দুটি স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত করার অনুরোধ জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠান।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব (জন বিভাগ), জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিশের মূল বক্তব্য ও আইনি যুক্তি:
-
অর্থনৈতিক বাধা হিসেবে সমাজতন্ত্র: নোটিশে উল্লেখ করা হয়, এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার সংজ্ঞা অনুযায়ী সমাজতন্ত্রের মূল লক্ষ্য ব্যক্তিমালিকানা ধ্বংস করে সমস্ত সম্পদ রাষ্ট্রের অধীনে আনা। বর্তমান মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগে এ ধারণাটি বিশ্বব্যাপী ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। সংবিধানে ‘সমাজতন্ত্র’ শব্দটি বহাল থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পুঁজি বাজেয়াপ্ত বা জাতীয়করণের আতঙ্কে বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগ করতে সাহসী হচ্ছেন না। ফলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বেসরকারি খাতের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।
-
গণতন্ত্র ও ধর্মীয় ভাবাবেগ: নোটিশে আরও দাবি করা হয়, ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ মূলনীতি দুটি কৃত্রিমভাবে চাপিয়ে দেওয়া এবং তা স্বাধীন বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পরিপন্থী।
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও সময়সীমা:
বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যের বরাত দিয়ে নোটিশে বলা হয়, ২০২৭ সালের প্রথম দিকে জাতীয় সংসদ ও পরবর্তী গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংবিধানের প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ৮ এবং অনুচ্ছেদ ১০ থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ অপসারণে প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধন ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

