যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ নির্দিষ্ট সীমায় বেঁধে দেওয়ার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত কঠোর নতুন বিধিমালার কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। বিধিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার মাত্র এক দিন আগে বোস্টনের মার্কিন জেলা আদালত থেকে এ সিদ্ধান্ত আসায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা থেকে রেহাই পেলেন লাখ লাখ বিদেশি নাগরিক।
বোস্টনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক এফ. ডেনিস সেলর শ্রমিক ইউনিয়ন ও উচ্চশিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন অধিকার সংগঠনের জোটের দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেন। আদালতের এই রায়ের ফলে প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থাটি আপাতত বহাল থাকছে।
কেন স্থগিত হলো ট্রাম্পের নতুন বিধি?
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার ও ভিসা জালিয়াতি ঠেকানোর দোহাই দিয়ে দীর্ঘদিনের নিয়ম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে বিচারক সেলর তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, ডিএইচএস অত্যন্ত দুর্বল যুক্তির ওপর ভিত্তি করে এই নতুন নীতি গ্রহণ করেছিল এবং নিয়ম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর দিকগুলোর যথাযথ আইনি মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিচারক সেলর রায়ে বলেন, “দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থার ফলেই বিশ্বের কোটি কোটি মেধাবী শিক্ষার্থী ও গবেষক যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ পেয়েছেন। বিজ্ঞান, চিকিৎসা, প্রযুক্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তাঁদের অবদান অপরিসীম। নতুন এই নিয়ম কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনীতি মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়ত।”
নতুন বিধিতে যেসব কড়াকড়ির পরিকল্পনা ছিল
গত জুলাই মাসে ডিএইচএস কর্তৃক ঘোষিত বিধিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, অধ্যাপক ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত করার পরিকল্পনা করা হয়:
-
শিক্ষার্থী ও গবেষক (F ও J ভিসা): আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ‘এফ’ ভিসা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির ‘জে’ ভিসার সর্বোচ্চ মেয়াদ চার বছর নির্দিষ্ট করে দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। (বর্তমানে পড়াশোনা বা গবেষণা সচল থাকা পর্যন্ত ভিসার মেয়াদ বহাল থাকে)।
-
সাংবাদিক (I ভিসা): বিদেশি সাংবাদিকদের ব্যবহৃত ‘আই’ ভিসার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সর্বোচ্চ সময়সীমা ২৪০ দিনে বেঁধে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত ক্ষতির আশঙ্কা
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৬ লাখ শিক্ষার্থী ‘এফ’ ভিসায় এবং প্রায় ৫ লাখ ব্যক্তি ‘জে’ ভিসায় অবস্থান করছেন। রায়ে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির মতো শীর্ষ সারির গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উদাহারণ দিয়ে বলা হয়, নতুন বিধি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অতিরিক্ত কয়েকশত কোটি ডলার ব্যয়ের বোঝা বইতে হতো এবং বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেত।
আদালতের এই স্থগিতাদেশকে স্বাগত জানিয়ে ‘প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন’-এর প্রধান মিরিয়াম ফেল্ডব্লুম জানান, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বমঞ্চ থেকে আবার মেধাবী শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা ও ধরে রাখার সুযোগ বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

