রাতের আকাশে অগ্নিকণার খেলা দেখতে পাওয়ার রোমাঞ্চকর সুযোগ মিলছে আজ। প্রাকৃতিকভাবে মহাকাশে ঘটে যাওয়া বিরল এক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। ১২ আগস্ট গভীর রাত থেকে ১৩ আগস্ট ভোরের আলো ফোটা পর্যন্ত মধ্যগগনে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকবে বিখ্যাত ‘পার্সিড উল্কাবৃষ্টি’ (Perseid Meteor Shower)।
সাধারণ মানুষের কাছে এই অলৌকিক দৃশ্য ‘তারা খসা’ নামে পরিচিত হলেও বিজ্ঞানের ভাষায় এটি সৌরজগতের ধূলিকণা আর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের এক চোখধাঁধানো সংযোগ।
কেন আজকের রাতটি এত বিশেষ?
প্রতি বছর জুলাই ও আগস্ট মাসে এই উল্কাবৃষ্টি দেখা গেলেও, ২০২৬ সালের এই রাতটি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। কারণ, আজকের রাতে অমাবস্যার কাছাকাছি সময় হওয়ায় আকাশে চাঁদের তীব্র আলো থাকবে না। অন্ধকার আকাশ উল্কাপাতের প্রতিটি দ্যুতি স্পষ্ট করে তোলার জন্য একেবারে আদর্শ।
আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে এবং শহরের কোলাহল ও কৃত্রিম আলো থেকে দূরে কোনো খোলা জায়গায় দাঁড়ালে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০টি পর্যন্ত উল্কার ঝলকানি দেখা যেতে পারে।
যেভাবে ঘটে এই আলোর খেলা
এই মহাজাগতিক উৎসবের মূলে রয়েছে ‘১০৯পি/সুইফট-টাটল’ নামক এক বিশাল ধূমকেতু। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় মহাকাশে এটি অসংখ্য ধূলিকণা ও ছোট ছোট পাথুরে টুকরো ছেড়ে যায়।
প্রতি বছর নির্দিষ্ট এই সময়ে পৃথিবী যখন ধূমকেতুটির ফেলে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, তখন ওই ক্ষুদ্র কণাগুলো চরম গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। বাতাসের ঘর্ষণে সেগুলো মুহূর্তের মধ্যে জ্বলে ওঠে এবং রাতের বুক চিরে তৈরি করে আলোর দীর্ঘ রেখা।
দেখার সেরা উপায় ও কৌশল
- সময়: রাত ১২টার পর থেকে ভোর হওয়ার আগ পর্যন্ত সময়টি উল্কাপাত দেখার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
- স্থান: উত্তর গোলার্ধের বাসিন্দাদের জন্য সুযোগটি সবচেয়ে বেশি। তবে শহরের সোডিয়াম লাইট ও কৃত্রিম আলো এড়িয়ে কোনো ফাঁকা মাঠ বা ছাদ বেছে নিলে স্পষ্ট দেখা যাবে।
- যন্ত্রপাতি: এই দৃশ্য উপভোগ করতে কোনো বিশেষ টেলিস্কোপ বা দূরবীনের প্রয়োজন নেই। খালি চোখেই সবচেয়ে বিস্তৃতভাবে পুরো আকাশ কাভার করে ‘তারা খসা’ উপভোগ করা সম্ভব।

