মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী পরিচালিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্কুল ‘ব্লু স্কাই’ পরিদর্শনে গিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান এসব কথা বলেন। সেখানে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের এই ভাইস প্রেসিডেন্ট শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শিশুরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার মহান কারিগর, তাই যেকোনো আকাঙ্ক্ষার জন্য মুক্ত আকাশই যেন তাদের সীমানা হয়।
শিশুদের উৎকর্ষ সাধনে ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, অতীতে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্যই ছিল শিশুদের সুপ্ত মেধার বিকাশ। পরবর্তী সময়ে কন্যাশিশুদের জন্য অবৈতনিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুর জীবন অগণিত আকাশচুম্বী ভাবনায় পূর্ণ থাকে। তাদের জন্য সুষ্ঠু শিক্ষা ও চিকিৎসার পাশাপাশি সবুজ খোলামাঠে প্রকৃতির সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। তার মতে, ৬৪টি জেলা ও ৫৯৯টি ইউনিয়নের ৯ হাজার ৯৯০টি গ্রামের কোনো শিশু যেন অবহেলার শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রশংসা করে জুবাইদা রহমান আরও বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ পেলে শিশুরা তাদের অসীম প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম। তিনি বলেন, শিশুদের দলগত কাজ এবং খেলাধুলার মানসিকতা তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার সাহস জোগায়। শিক্ষার্থীরা আজ প্রমাণ করেছে যে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যেকোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। এ সময় তিনি গোল্ডেন ঈগল স্কুলের ছাত্রীদেরও ধন্যবাদ জানান এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা ব্যক্ত করেন।
নারীদের ক্ষমতায়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতির (বাফওয়া) ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন ডা. জুবাইদা। তিনি জানান, দেশের মোট জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ নারী, আর তাদের উন্নয়নে বাফওয়ার হস্তশিল্প ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগগুলো অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাফওয়ার সভানেত্রী সালেহা খান এবং ব্লু স্কাই স্কুলের অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নূর উল্লাহ (পিএসসি)।
পরিদর্শনের আগে ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (প্রশাসন), বাফওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভানেত্রীবৃন্দ, বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধি এবং বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিশু কিশোররা আকাশচুম্বী আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরবর্তীতে কন্যা শিশুদের উচ্চতর স্তরে লেখাপড়া অবৈতনিক করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুধু চায় সুষ্ঠু শিক্ষা ব্যবস্থা, তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের বন্দোবস্ত ও সবুজ খোলামাঠে প্রকৃতির মাঝে খেলাধুলা, বিচরণের সুযোগ, যেকোনো ব্যাধির চিকিৎসার নিশ্চয়তা আমাদের সকলের সৃষ্টি করতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেন বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায়, উপজেলায়, ৫৯৯টি ইউনিয়নের ৯ হাজার ৯৯০ টি গ্রামের কোনো শিশু-কিশোর অবহেলায় ঝরে না পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রত্যেক শিশু যেন তার অভিভাবক ও পরিবারের কাছে সুরক্ষিত থাকে।’’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জুবাইদা রহমান বলেন, ‘‘শিশুরা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রিয় ও মূল্যবান সম্পদ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের সকলের মধ্যে আকাশচুম্বী স্বপ্ন— নীল আকাশে ডানা মেলে উড়বে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের ইচ্ছা— আকাশচুম্বী মনোবল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’’।

