অস্ট্রেলিয়া সরকার দেশটির অভিবাসন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক সরকারের এই নতুন অভিবাসন নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা। সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে বার্ষিক নেট বিদেশি অভিবাসন সংখ্যা বর্তমানের প্রায় ৩ লাখ থেকে কমিয়ে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা হবে।
প্রস্তাবিত এই নীতিমালার অন্যতম একটি কঠোর দিক হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আসার সুযোগ সীমিত করা। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থীকে পরিবার ছাড়া একাকী অস্ট্রেলিয়ায় আসার বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হতে পারে, যদিও আপাতত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মোট সংখ্যা কমানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্থায়ী ভিসার সংখ্যা কমানো, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অভিবাসীদের দেশত্যাগের প্রক্রিয়া জোরদার করা এবং এক ভিসা থেকে অন্য ভিসায় ঘনঘন পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত করা। একইসঙ্গে সুরক্ষা বা প্রোটেকশন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকেও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে অস্ট্রেলিয়ায় কাজ, পড়াশোনা কিংবা পরিবারের সঙ্গে বসবাসের পরিকল্পনা করা বিদেশিরা সরাসরি প্রভাবিত হবেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মতো এশীয় দেশগুলো থেকে যাওয়া শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়মগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আগামীকালের ঘোষণার পরেই নতুন নীতিমালার বিস্তারিত তথ্য এবং কোন ভিসাধারীদের ওপর এটি কতটুকু কার্যকর হবে, সেই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।

