মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের (UNFPA) বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ক্যাথরিন ব্রিন কামকং (Catherine Breen Kamkong)।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে এই দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
যেসব বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা
বৈঠকে দুই পক্ষ নারী ও শিশু উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ে আলোচনা করেন। আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল:
-
সামাজিক সুরক্ষা ও মা-শিশু উন্নয়ন: ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (MCBP) এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা।
-
সহিংসতা প্রতিরোধ ও আইনি সুরক্ষা: নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা নিরসন, অনলাইন প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং সাইবার বুলিং প্রতিরোধ।
-
অধিকার ও কল্যাণ: নারী শিক্ষা, জেন্ডার সমতা অর্জন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য, শিশু অধিকার সুরক্ষা এবং শিশুশ্রম নিরসন।
বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ ল্যাব সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা
বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত অত্যাধুনিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির কার্যক্রম সম্পর্কে UNFPA প্রতিনিধিকে অবহিত করেন মন্ত্রী।
তিনি জানান, বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনয়ন এবং নারী ও শিশুদের আইনি সুরক্ষা আরও সুদৃঢ় করতে পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ ল্যাব সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে UNFPA-এর কারিগরি ও জ্ঞানগত সহযোগিতা কামনা করা হলে সংস্থাটির প্রতিনিধি এতে ইতিবাচক সাড়া দেন।
এছাড়া মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাল্যবিবাহসহ সামাজিক ব্যাধি রুখতে তৃণমূলের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।
UNFPA-এর প্রশংসা ও পরামর্শ
UNFPA-এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ক্যাথরিন ব্রিন বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ ও অঙ্গীকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
-
তৃণমূল সমন্বয়: বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণ দূরীকরণে স্থানীয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
-
নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস: আসন্ন ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ ও এ সংক্রান্ত ১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি মন্ত্রীকে অবহিত করেন। মন্ত্রী এই কর্মসূচি শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানান।
সবশেষে মন্ত্রী বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির উপযুক্ত করতে যুগোপযোগী বিপণন প্রশিক্ষণে উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

