বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে দর্শকদের আগ্রহ ফেরাতে নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি। ‘ডি থ্রি’ বা ‘ডমেস্টিক থ্রি’ ট্রফি নামের এই আসরে একই ছয়টি দল খেলবে চার দিনের ম্যাচ, ৫০ ওভারের ক্রিকেট ও টি-টোয়েন্টি।
গতকাল রোববার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে জমকালো আয়োজনে নতুন টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, “অনেক সময়ই সবাইকে বলতে শুনি, ঘরোয়া ক্রিকেট রং হারিয়েছে, ইন্টারেস্ট নেই…ওই রং, ওই ইন্টারেস্ট আমরা ফিরিয়ে আনতে চাই…।” অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
আটটি প্রতিষ্ঠান দল নিতে আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত ছয়টিকে বেছে নিয়েছে বিসিবি। দলগুলোর মালিকানা পেয়েছে এইস ব্লুস্টার, ওয়ালটন গ্রুপ, সিটিজেন ব্যাংক, একমি গ্রুপ, সেভেন রিংস সিমেন্ট ও ফরচুন গ্রুপ। তিন বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে দল দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে প্রতিটি দল একজন করে আইকন ক্রিকেটার বেছে নিয়েছে। এইস ব্লুস্টারের আইকন নুরুল হাসান সোহান, ওয়ালটনের মেহেদী হাসান মিরাজ, সেভেন রিংস সিমেন্টের মুশফিকুর রহিম, একমির মোসাদ্দেক হোসেন, ফরচুনের তাওহিদ হৃদয় এবং সিটিজেন ব্যাংকের মোহাম্মদ নাঈম শেখ।
আগামী ২৬ অক্টোবর ক্রিকেটার বাছাইয়ের আয়োজন হবে। সেটি ড্রাফটের মাধ্যমে হবে, নাকি নিলামে—তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিন সংস্করণে খেলার জন্য প্রতিটি দল ২৩ জনের স্কোয়াড গড়বে। কোচ, ফিজিও, ট্রেনার ও অ্যানালিস্টদেরও ড্রাফটের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হবে।
১৫ ডিসেম্বর বরিশালে টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে নতুন আসর। চার দিনের ম্যাচ হবে জানুয়ারিতে, আর ৫০ ওভারের ম্যাচ মে মাসে। সব মিলিয়ে ম্যাচ হবে ৪২টি—টি-টোয়েন্টিতে ১৯টি, ৫০ ওভারে ১৬টি এবং চার দিনের ক্রিকেটে সাতটি।
ডি থ্রি ট্রফি চালু হলে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) ও জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টি আর আয়োজন করা হবে না। তবে জাতীয় ক্রিকেট লিগ ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আগের মতোই আলাদা থাকবে। প্রতিটি দল বছরে আড়াই কোটি টাকা করে দেবে; বাকি খরচ বহন করবে বিসিবি। তামিমের আশা, নতুন উদ্যোগটি ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রাণ ফেরানোর পাশাপাশি বোর্ডের বছরে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা সাশ্রয় করবে।

