যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ দক্ষতার চাকরি ও সফল ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ করে দেয় এইচ-১বি (H-1B) ভিসা। তবে পেশাগত সাফল্য পাওয়ার পরও এই ভিসায় কর্মরত বহু বিদেশি কর্মীর কাছে স্থায়ী আবাসন, নতুন শহরে স্থানান্তর কিংবা পরিবার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করাটা বেশ জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রযুক্তি ও ব্যবসাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডার-এর এক প্রতিবেদনে অভিবাসী কর্মীদের জীবনের এই গভীর অনিশ্চয়তার চিত্র উঠে এসেছে।
এইচ-১বি ভিসা পেয়েছেন বা পাওয়ার চেষ্টা করছেন এমন ২০ জনেরও বেশি কর্মীর সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংবাদমাধ্যমটি। তাঁদেরই একজন মধুর মেহতা। যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করে বিশ্বের অন্যতম সেরা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘অ্যামাজন’-এ চাকরি পান এবং লটারির মাধ্যমে এইচ-১বি ভিসার জন্য নির্বাচিত হন তিনি। তবুও নিজের ও বাগদত্তার ভবিষ্যত নিয়ে নিশ্চিন্ত হতে না পেরে স্থায়ীভাবে বাসা কেনার সাহস পাচ্ছেন না। তাঁর বাগদত্তার কাজের অনুমতির (ওয়ার্ক পারমিট) মেয়াদ শেষের দিকে, অথচ এইচ-১বি নির্বাচনের সুযোগ রয়েছে আর মাত্র একটি।
শুধু আবাসন বা স্থায়ী পরিকল্পনা নয়, চাকরির পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও জটিল সমীকরণের মুখোমুখি হতে হয় এসব কর্মীদের। ইউএস সার্টিফাইড সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (USCIS) নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা পরিবর্তন না করে অন্য প্রতিষ্ঠানে সুইচ করার সুযোগ থাকলেও নতুন নিয়োগকর্তাকে পুনরায় আবেদন জমা দিতে হয়। এছাড়া পদোন্নতি বা দায়িত্বের ধরণ পরিবর্তন হলেও অনেক সময় সংশোধিত আবেদনের প্রয়োজন পড়ে।
প্রতিবেদনে অংশ নেওয়া বহু কর্মী জানান, ভিসা প্রক্রিয়ার এই অনিশ্চয়তা তাঁদের চাকরি বদল, পদোন্নতি গ্রহণ বা পছন্দসই শহরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তকে পদে পদে বাধাগ্রস্ত করছে। এইচ-১বি ভিসা উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য সম্ভাবনা ও সুযোগের দুয়ার খুলে দিলেও কর্মজীবনের এই সাফল্যের সঙ্গে পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করার পথটি কতটা মসৃণ, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

