নতুন বেতন কাঠামোর (পে-স্কেল) বাড়তি বেতনের জন্য অপেক্ষার প্রহর অবশেষে শেষ হতে যাচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসের বেতন আগের নিয়মেই হলেও আগামী অক্টোবরের বেতন থেকেই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুন পে-স্কেলের বর্ধিত অর্থ যুক্ত হচ্ছে। সে হিসাবে আগামী নভেম্বরের শুরুতেই হাতে মিলবে নতুন স্কেলের বর্ধিত বেতন।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার, যেখানে এটি চলতি বছরের ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকরের কথা জানানো হয়। তবে মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-ফিক্সেশন (বেতন নির্ধারণ) কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সেপ্টেম্বর মাসের বেতনে বাড়তি সুবিধা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
পে-ফিক্সেশন ও বকেয়া বা ‘এরিয়ার’ হিসাব
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-ফিক্সেশন বা অনলাইনে তথ্য যাচাই করে বেতন চূড়ান্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এজন্য হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
-
তিন মাসের বকেয়া: নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরায় জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বকেয়া বা ‘এরিয়ার’ অর্থ হিসাব শেষ হওয়ার পর একসঙ্গে সমন্বয় করে পরিশোধ করার প্রস্তুতি রয়েছে।
ধাপে ধাপে কার্যকর হবে বাড়তি বেতন ও ভাতা
অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন মূল বেতন একবারে না হয়ে তিনটি ধাপে এবং অন্যান্য ভাতা পরে কার্যকর হবে:
-
প্রথম ধাপ (১ জুলাই ২০২৬ – ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬): ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের প্রবীণ কর্মকর্তারা মূল বেতনের বাড়তি অংশের ৪০% এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৫০% পাবেন।
-
দ্বিতীয় ধাপ (১ জানুয়ারি ২০২৭ – ৩০ জুন ২০২৭): ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তা ৭০% এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড ৭৫% সুবিধা পাবেন।
-
তৃতীয় ধাপ (১ জুলাই ২০২৭ থেকে): সকল গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন কাঠামোর ১০০% বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে।
-
ভাতা ও পেনশন সুবিধা (১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে): চিকিৎসা, বাড়িভাড়াসহ নতুন পে-স্কেলের বিভিন্ন ভাতা এবং পেনশনভোগীদের নতুন সুযোগ-সুবিধা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, এবারের নতুন বেতন কাঠামোয় ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে।

