ফিফা আসিয়ান কাপের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলের শোচনীয় পরাজয়ে কেবল টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নেয়নি বাংলাদেশ, বরং উন্মোচিত হয়েছে দেশের ফুটবলের এক করুণ ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সাম্প্রতিক অতীতে এত বড় ব্যবধানে হার না দেখলেও, জাকার্তার এই হার ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিয়েছে প্রায় আধা শতাব্দী আগের স্মৃতি।
নথি ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল এর আগেও তিনবার এক ম্যাচে ৯টি করে গোল হজম করেছিল।
অতীতে ৯ গোল হজমের তিন তিক্ত স্মৃতি:
-
১৯৭৫ (মারদেকা কাপ): আজ থেকে ঠিক ৫১ বছর আগে মালয়েশিয়ার মারদেকা কাপে হংকংয়ের কাছে ৯-১ গোলে পরাজিত হয়েছিল বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক সেই ম্যাচে লাল-সবুজ পতাকাবাহীদের হয়ে সান্ত্বনা সূচক একমাত্র গোলটি করেছিলেন কিংবদন্তি ফুটবলার কাজী সালাউদ্দিন।
-
১৯৭৯ (ইনচন ম্যাচ): দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হয়ে ৯-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে মাঠ ছেড়েছিল বাংলাদেশ।
-
১৯৮২ (কায়েদ-ই-আজম কাপ): পাকিস্তানের করাচিতে আয়োজিত কায়েদ-ই-আজম আন্তর্জাতিক ফুটবলে তৎকালীন এশিয়ান পরাশক্তি ইরানের কাছে ৯-০ গোলের ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছিল জাতীয় দল।
অন্যান্য বড় ব্যবধানের হার ও আলোকের রেখা:
এর বাইরে ১৯৯৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ৭-০, একই বছর জাপানের কাছে ৮-০ এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালে জর্ডানের বিপক্ষে ৮-০ গোলে হারের রেকর্ড রয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধি দলের।
তবে বৃহস্পতিবার জাকার্তায় ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯ গোল খেলেও অতীতের মতো পুরোপুরি গোলশূন্য বা এক গোলে আটকে থাকেনি বাংলাদেশ। আক্রমণভাগের শাহরিয়ার ইমনের হেডার এবং বদলি নামা তরুণ ফারহান আলী ওয়াহিদের ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক অভিষেক গোলের সুবাদে দু’টি গোল শোধ করতে সক্ষম হয় দল।

