মরুর দেশে সোনালি স্বপ্নের খোঁজে যাওয়া ৩২ লাখেরও বেশি সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও গভীর অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। একদিকে কাজ না থাকা, মাসের পর মাস বেতন আটকে থাকা এবং উচ্চ ইকামা নবায়ন ফির টানাপোড়েন; অন্যদিকে রিয়াদসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আতঙ্ক—সব মিলিয়ে এক বিষাদময় পরিস্থিতির মুখোমুখি মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রধান শ্রমবাজারটি।
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এই দুরবস্থার মাঝে গত ১২ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান দুই বাংলাদেশি—বগুড়ার শাহেদ আহম্মেদ ও কুমিল্লার নাসরুল্লাহ বদরপুরি। এ ঘটনায় আরও ২৪ জন বাংলাদেশি আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার পর রিয়াদসহ বিভিন্ন রুটে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় দেশে ছুটিতে এসে আটকে পড়েছেন সাড়ে ৫ হাজারের বেশি প্রবাসী। ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় অনেকে চাকরি হারানোর তীব্র আশঙ্কায় দিন গুনছেন।
সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসীদের অভিযোগ, নতুন ভিসায় যাওয়া কর্মীরা পৌঁছানোর পর কোনো কাজ পাচ্ছেন না। তথাকথিত ‘ফ্রি ভিসা’ ও সাপ্লাই কোম্পানির খপ্পরে পড়ে অনেকেই কাজহীন অবস্থায় দিনে ৫০ রিয়ালের আশায় শ্রম বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, বিভিন্ন কোম্পানিতে ৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে বেতন না পেয়ে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন বহু অভিবাসী শ্রমিক।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, প্রবাসীদের কর্মস্থলে ফেরা নিশ্চিত করতে সৌদির চালু থাকা অন্যান্য বিমানবন্দরে বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ও জাতীয় রেমিট্যান্স প্রবাহে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই সরকার নতুন ও বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে আগামীতে নির্মাণ, পর্যটন ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান আরও সংকুচিত হবে, যার সরাসরি আঘাত আসবে অদক্ষ ও স্বল্প-দক্ষ প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর।

