যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। আগের দিন বিশ্ববাজারে বড় ধরনের দরবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭৫ সেন্ট বা ০.৭৯ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৪.২৩ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮৫ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১.৩১ ডলারে থিতু হয়।
এর আগে সোমবার দুই ধরনের জ্বালানি তেলের দামই ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। তবে পুরো মে মাসজুড়ে শান্তিচুক্তির আশাবাদে তেলের বাজারে ১৬ শতাংশেরও বেশি দরপতন পরিলক্ষিত হয়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা কোন দিকে মোড় নেয় এবং বিশেষ করে কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্য ও জ্বালানি ট্যাংকার চলাচলের বিষয়ে ইরানের অবস্থান কী হয়—তার ওপরই তেলের বাজারে রিস্ক প্রিমিয়াম বা অতিরিক্ত মূল্য নির্ভর করবে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হয়, যা বৈশ্বিক তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে দিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতির কারণে সম্প্রতি এশিয়া ও ইউরোপে মার্কিন তেলের চাহিদা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে মে মাসে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানি দৈনিক রেকর্ড ৫৬ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।

