চলতি ২০২৬ সালের মার্চ প্রান্তিক শেষে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ কমে ১১০ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন (১১ হাজার ৯৩ কোটি) মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে যেখানে বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ১১৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার, সেখানে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে বৈদেশিক ঋণ কমেছে প্রায় ২ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত বৈদেশিক ঋণসংক্রান্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
খাত-সংশ্লিষ্ট ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সম্প্রতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি, সময়মতো ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন ঋণ গ্রহণে সরকার ও বেসরকারি খাতের সতর্ক অবস্থানের কারণে এই ঋণ হ্রাসের ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে সরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯০ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলারে, যা দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের প্রায় ৮২ শতাংশ। এর মধ্যে সাধারণ সরকারের (জেনারেল গভর্নমেন্ট) দায় ৭৯ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশনগুলোর বৈদেশিক ঋণ কমে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে, যা ২০২৫ সালের জুনে ছিল ১৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। বড় একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া এবং নতুন ঋণ গ্রহণে সরকারের সচেতন নীতির কারণেই এই খাতগুলোতে স্থিতি কমেছে।
একই সময়ে বেসরকারি খাতের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলারে (গত ডিসেম্বরে যা ছিল ২০ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার)। বৈশ্বিক বাজারে উচ্চ সুদহার, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের অস্থিরতা এবং নতুন বিনিয়োগে ধীরগতির কারণে বেসরকারি উদ্যোক্তারাও নতুন বিদেশি ঋণ গ্রহণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বেসরকারি খাতের এই ঋণের মধ্যে বায়ার্স ক্রেডিট (৪.৪৬ বিলিয়ন ডলার) ও অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (২.২১ বিলিয়ন ডলার) সহ স্বল্পমেয়াদি ঋণের স্থিতি ছিল ১০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক ঋণের বর্তমান কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের আধিক্য থাকায় তাত্ক্ষণিক স্বল্পমেয়াদি ঝুঁকি কম। তবে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের ধারাবাহিক চাপ দক্ষতার সাথে সামলাতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স প্রবাহ ত্বরান্বিত করা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী রাখার ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে।

