বাজার মনিটরিংয়ের নামে প্রশাসনিক হয়রানি, পুলিশি মামলা ও এলপিজি বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলোর ইচ্ছামতো দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সারাদেশে আগামী দুই দিন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ‘এলপি গ্যাস ট্রেডার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’। ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারাদেশে খুচরা পর্যায়ে সব ধরণের এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ধর্মঘটের ঘোষণা দেন সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম খান অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিলেও বেশ কয়েকটি পরিবেশক ও আমদানিকারক কোম্পানি নিজেদের মতো দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে খুচরা বিক্রেতারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনে সংকটে পড়েন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মূল কোম্পানিগুলোকে ছেড়ে খুচরা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর অযৌক্তিক জরিমানা ও মালামাল বাজেয়াপ্তের মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, খুলনা-বাগেরহাটে অতিরিক্ত মাত্র ৪০টি সিলিন্ডার মজুতের অপরাধে এক পরিবেশককে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতারা আরও জানান, পরিবহনকালে নিরাপত্তাবেষ্টনী থাকা সত্ত্বেও পুলিশ সড়কপথে সিলিন্ডারবাহী গাড়ি আটকে অহেতুক মামলা ও প্রশাসনিক হয়রানি করছে। এছাড়া এলসি (ঋণপত্র) জটিলতায় এলপিজির তীব্র সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে লাখ লাখ খালি সিলিন্ডার অলস পড়ে থাকলেও তা রিফিল করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের অবিলম্বে হস্তক্ষেপর দাবি জানিয়ে তারা হুঁশিয়ারি দেন, এই দুই দিনের ধর্মঘটের পর সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

