সৌদি আরবের বিমানবন্দরে সম্প্রতি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে জারি করা জরুরি বিধিনিষেধের প্রভাবে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে ঢাকা-সৌদি রুটের আকাশপথ। মধ্যপ্রাচ্যগামী একের পর এক ফ্লাইট স্থগিত ও বাতিল হওয়ায় ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জমে উঠেছে সৌদিগামী হাজার হাজার প্রবাসীর ভিড় ও অনিশ্চয়তা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পর্যন্ত ঢাকা-সৌদি রুটের মোট ১৫৯টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে সব মিলিয়ে প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তি ও উদ্বেগের মুখে পড়েছেন।
এয়ারলাইনসভিত্তিক বাতিল ফ্লাইটের চিত্র:
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে বিমান চলাচলে বিধিনিষেধের পর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইনসের সময়সূচি ও ফ্লাইট পরিচালনা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। বাতিল ও বিঘ্নিত হওয়া মোট ১৫৯টি ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে—
-
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স: ৩৭টি ফ্লাইট
-
ইন্ডিগো এয়ার: ৩০টি ফ্লাইট
-
সৌদিয়া এয়ারলাইনস: ২০টি ফ্লাইট
-
রিয়াদ এয়ারওয়েজ: ১৫টি ফ্লাইট
-
এমিরেটস এয়ারলাইনস: ১৪টি ফ্লাইট
-
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স: ১০টি ফ্লাইট
-
কাতার এয়ারওয়েজ: ৯টি ফ্লাইট
-
ফ্লাই দুবাই: ৮টি ফ্লাইট
-
এয়ার ইন্ডিয়া: ৮টি ফ্লাইট
-
সালাম এয়ার: ৭টি ফ্লাইট
-
ইজিপ্ট এয়ার: ১টি ফ্লাইট
এর ফলে এখন পর্যন্ত মোট ২২ হাজার ৭২১ জন প্রবাসগামী যাত্রী সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকের ভিসার মেয়াদ ও ছুটির হিসাব নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর দুশ্চিন্তা।
প্রেক্ষাপট ও এয়ারলাইনসগুলোর সাময়িক সিদ্ধান্ত:
উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে জেদ্দা ও দাম্মামসহ দেশটির অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও কঠোর নিরাপত্তা ও উড্ডয়ন বিধিনিষেধ জারি করা হয়।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের ফ্লাইট স্থগিত করে এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সও তাদের রিয়াদগামী ফ্লাইটগুলো সাময়িকভাবে বাতিল ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
বেবিচকের পদক্ষেপ:
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। আটকে পড়া যাত্রীদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে ফ্লাইটগুলোর সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ (Reschedule) করতে সংশ্লিষ্ট দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।

