নিজের ‘সর্বোচ্চ আইকিউ বা বুদ্ধিমত্তা’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের এই তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার পেছনে তাঁর প্রয়াত চাচা জন ট্রাম্পের জিনগত প্রভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ট্রাম্পের চাচা জন ট্রাম্প ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) একজন প্রখ্যাত পদার্থবিদ ও প্রকৌশলী ছিলেন এবং টানা ৪১ বছর সেখানে শিক্ষকতা করেছেন।
সম্প্রতি প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘টাইম ম্যাগাজিন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেই ট্রাম্প এসব দাবি তোলেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বয়ান:
সাক্ষাৎকারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের ওপর বিশ্বাসের প্রসঙ্গ উঠতেই হঠাৎ নিজের চাচার কথা টেনে আনেন ট্রাম্প।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনারা কি আমার চাচাকে নিয়ে সংবাদটি দেখেছেন? আমার আইকিউ সর্বোচ্চ এবং আমি প্রযুক্তিগত জটিল বিষয়গুলো খুব ভালো বুঝি। আমার চাচা এমআইটিতে ৪১ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। সত্য বলতে, আমি জিনতত্ত্বে বিশ্বাস করি এবং বুঝি।” তিনি আরও দাবি করেন, অন্য যেকোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি খাতের বিষয়গুলো বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে।
কে ছিলেন জন ট্রাম্প ও ট্রাম্পের অতীত ইতিহাস:
ড. জন জর্জ ট্রাম্প ছিলেন এমআইটির প্রকৌশল বিভাগের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অধ্যাপক। তিনি উচ্চভোল্টেজ প্রযুক্তি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিখ্যাত রাডার প্রযুক্তি ও ক্যানসার চিকিৎসায় বিশেষ অবদান রেখে ১৯৮৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের হাত থেকে ‘ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স’ সম্মাননা অর্জন করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
-
অতীতেও একই দাবি: ২০১৬ সালের নির্বাচনি প্রচারণা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিকবার চাচার এমআইটির ছবি পোস্ট করে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, “আমার রক্তেই বুদ্ধিমত্তা রয়েছে।”
-
‘আনাবোম্বার’ বিতর্ক: গত বছর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তাঁর চাচা নাকি আমেরিকার কুখ্যাত বোমা হামলাকারী ‘আনাবোম্বার’ খ্যাত টেড ক্যাসিনস্কির শিক্ষক ছিলেন। যদিও অনুসন্ধানে দেখা যায়, ক্যাসিনস্কি হার্ভার্ড ও মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং এমআইটির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল না।
সামাজিক মাধ্যমে ট্রল ও ট্রাম্পের যুক্তি:
ট্রাম্পের এমন ‘চাচার কারণে উচ্চ আইকিউ’ অর্জনের দাবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ট্রলের ঝড় উঠেছে। নেটিজেনরা কটাক্ষ করে লিখেছেন—চাচার মেধা সরাসরি ভাতিজার শরীরে সঞ্চারিত হওয়ার দাবির মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রমাণ করেছেন যে তিনি জিনতত্ত্বের মৌলিক নিয়মটাই বোঝেন না। কারণ বংশগত বৈশিষ্ট্য বাবা-মা ও দাদা-দাদির মাধ্যমেই প্রবাহিত হয়।
তবে বিতর্কের মধ্যেও ট্রাম্পের প্রেস সচিব স্পষ্ট করেছেন, প্রেসিডেন্ট তাঁর প্রখ্যাত পরিবারের ইতিহাস নিয়ে গর্ব করেন এবং ওভাল অফিসের ডাইনিং রুমে চাচার চিঠি বাঁধাই করে রেখেছেন।

