যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বাড়লেও দেশটির খুচরা বাজার বা রিটেইল খাতে বইছে মন্দার হাওয়া। ই-কমার্সের তীব্র প্রতিযোগিতা, পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের কেনাকাটার অভ্যাসে পরিবর্তনের কারণে চলতি শরতেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে শত শত শোরুম বন্ধ করতে যাচ্ছে বড় বড় চেইন শপগুলো।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কোরসাইট রিসার্চ’-এর তথ্য অনুযায়ী, খুচরা বিক্রেতারা এখন কেবল শোরুমের সংখ্যা বাড়ানোর বদলে লাভজনক শাখা রক্ষা এবং ই-কমার্স ব্যবসায় জোর দিতে চাইছে।
তালিকায় থাকা চার শীর্ষ ব্র্যান্ডের বন্ধের পরিকল্পনা:
১. মেসিস (Macy’s): দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত রূপান্তর ‘আ বোল্ড নিউ চ্যাপ্টার’-এর অধীনে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ১৫০টি অলাভজনক ডিপার্টমেন্টাল স্টোর বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে মেসিস। সিইও টনি স্প্রিং জানান, অনুৎপাদনশীল শাখাগুলো বন্ধ করে তারা বিলাসবহুল ব্র্যান্ড ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মনোযোগ বাড়াচ্ছেন।
২. ওয়ালগ্রিন্স (Walgreens): যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কার্যক্রম ছোট করে আনতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ১,২০০টি অলাভজনক ফার্মেসি শাখা বন্ধ করছে ওয়ালগ্রিন্স। যেসব শাখার নগদ প্রবাহ (ক্যাশ ফ্লো) নেতিবাচক এবং চুক্তি বা ইজারা শেষ পর্যায়ে রয়েছে, চলতি শরতেই সেগুলো বন্ধের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।
৩. স্টারবাকস (Starbucks): বিশ্বখ্যাত কফি চেইন স্টারবাকস উত্তর আমেরিকায় প্রায় ২৫০টি অলাভজনক ক্যাফে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মাইক গ্রামস জানান, যেসব আউটলেটে গ্রাহক সেবা মানসম্মত রাখা সম্ভব হচ্ছে না বা লোকসান হচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করা হচ্ছে।
৪. ক্রোগার (Kroger): সুপারমার্কেট জায়ান্ট ক্রোগার ২০২৬ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী এ বছরের শেষ নাগাদ ৬০টি গ্রোসারি স্টোর বন্ধ করছে, যার বড় একটি অংশ বন্ধ হচ্ছে চলতি শরতেই। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বন্ধ হওয়া শাখার কর্মীদের অন্যান্য আউটলেটে পুনর্বাসিত করা হবে।
খাত সংশ্লিষ্টদের বিশ্লেষণ:
খুচরা বাজারে এই শোরুম বন্ধের হিড়িক থাকলেও বিশেষজ্ঞরা একে সার্বিক অর্থনৈতিক ধস হিসেবে দেখতে নারাজ। কোরসাইট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রে শোরুম বন্ধের হার প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি কমেছে (চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বন্ধ হয়েছে ৩,৩২১টি শোরুম)।
মহামারির সময়ে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো আগেই ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়াতে বর্তমানের এই সিদ্ধান্তকে ব্র্যান্ডগুলোর একটি ‘পরিকল্পিত ও পুনর্বিন্যাসকৃত ব্যবসায়িক কৌশল’ হিসেবে বিবেচনা করছেন মার্কিন বাজার বিশ্লেষকরা।

