ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক অভিযানের মুখে মিত্রদেশগুলোর কৌশলগত ও জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা হামলার ঝুঁকি কমাতে সম্প্রতি সৌদি আরব ও কাতারে অতিরিক্ত দুটি আধুনিক ‘প্যাট্রিয়ট’ মিসাইল ডিফেন্স ব্যাটারি পাঠিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিয়োস’-কে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা ও একটি আঞ্চলিক সূত্র এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্যাট্রিয়ট মোতায়েন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলার আশঙ্কা তীব্র হয়েছে।
-
সৌদি আরব ও কাতার সুরক্ষা: গত মাসে সৌদি আরবের একটি প্রধান তেল স্থাপনার নিরাপত্তায় বাড়তি একটি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে কাতারের একটি বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনা সুরক্ষায় আরও একটি ব্যাটারি পাঠায় মার্কিন সামরিক বাহিনী।
-
আকাশসীমা ব্যবহারের শর্ত: বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে হলে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। তবে নিজেদের জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষিত না থাকলে রিয়াদ এই অনুমতি দেবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
-
সরবরাহ সংকট: বিশ্বজুড়ে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টরের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর অন্যান্য আঞ্চলিক কমান্ড থেকে এসব সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে এনেছে, যা অন্য অঞ্চলে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি করেছে উদ্বেগ।
তিনটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ও সেনাবহর পাঠাচ্ছে পেন্টাগন:
ট্রাম্পের নতুন চরমপত্রের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি, যুদ্ধজাহাজ এবং সেনাসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
-
ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট: স্যান দিয়েগো থেকে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ ও এর স্ট্রাইক গ্রুপ ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে, যা নভেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ পৌঁছাবে।
-
একযোগে ৩টি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার: এ অঞ্চলে আগে থেকেই অবস্থান করছে ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ এবং ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’। ফলে খুব শিগগির মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীনভাবে তিনটি বিমানবাহী রণতরির উপস্থিতি দেখা যেতে পারে।
-
মেরিন সেনাবহর: ১৩তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের কয়েক হাজার সেনাসহ তিনটি উভচর যুদ্ধজাহাজ নিয়ে ‘মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ’ নভেম্বরের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এখন আমাকে একটি সিদ্ধান্ত নিতেই হবে—হয় ইরান চুক্তি সই করবে, নয়তো দেশটির আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।” একদিকে কূটনৈতিক চুক্তি না হলে কঠোর হামলার ট্রাম্পের হুমকি, অন্যদিকে বিশাল সামরিক উপস্থিতির খবরে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

