মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) কর্মকর্তার মিথ্যা পরিচয় দিয়ে এক নারী ও তাঁর পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়নের ভয় দেখানোর অপরাধ আদালতে স্বীকার করেছেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) সাবেক সার্জেন্ট বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আতিকুল ইসলাম।
গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে ভুয়া ফেডারেল কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়ার অপরাধ স্বীকার করেন তিনি। এই অপরাধে তাঁর সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
হুমকি ও ভুয়া পরিচয়ের বিবরণ:
মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতে আতিকুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২২ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ওই নারীকে একাধিক হুমকিমূলক টেক্সট মেসেজ পাঠান।
-
বিতাড়নের ভয় দেখানো: ২৯ মার্চের এক মেসেজে আতিকুল ওই নারীকে সতর্ক করে জানান, তিনি তাঁর সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানেন এবং আইসিই ডেকে তাঁকে ও তাঁর পুরো পরিবারকে গ্রেপ্তার করিয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত করবেন।
-
ভুয়া নোটিশ প্রদান: উক্ত বার্তার প্রায় চার ঘণ্টা পর অন্য একটি অপরিচিত নম্বর থেকে নিজেকে আইসিই-এর নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসের পরিচালক পরিচয় দিয়ে আরেকটি বার্তা পাঠান আতিকুল। মেসেজটিকে একটি অফিসিয়াল সরকারি নোটিশ হিসেবে উপস্থাপন করে নারী ও তাঁর পরিবারকে জরুরি ভিত্তিতে আইসিই অফিসে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, অন্যথায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
পদত্যাগ ও আইনি সমঝোতা:
আদালতে অপরাধ স্বীকারের সমঝোতা চুক্তির অংশ হিসেবে গত ২৫ সেপ্টেম্বর এনওয়াইপিডি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন আতিকুল ইসলাম। চুক্তির শর্তানুসারে, ভবিষ্যতে তিনি এনওয়াইপিডি বা আমেরিকার অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায় চাকরির জন্য আর কখনোই আবেদন করতে পারবেন না।
নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা জুনিয়র এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত শত্রুতাবশত একজন নারীকে মিথ্যা পরিচয় ও ইমিগ্রেশনের ভয় দেখানোর কারণে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

