ইতালির বাৎসরিক ‘দেক্রেতো ফ্লাসি’ (Decreto Flussi) কোটা ব্যবস্থার বাইরে সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের ইতালি যাওয়ার এক অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশটির অভিবাসন আইনের ‘আর্টিকেল ২৩’ বিধির আওতায় ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয় অনুমোদিত প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে সরাসরি দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশি কর্মীরা।
গতকাল ঢাকায় ইতালি দূতাবাস ও তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে এ সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা ও সুযোগ-সুবিধার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও আবেদনের নিয়ম:
নতুন এই বিধানের মূল শর্ত হলো ইতালি যাওয়ার পূর্বে তিনটি বিষয়ে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে— মৌলিক ইতালীয় ভাষা, ইতালির নাগরিক নিয়মকানুন (Civic Education) এবং খাতভিত্তিক পেশাগত দক্ষতা।
ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো জানান, এই পুরো প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াটি ইতালীয় নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করবে। ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীকে অর্থ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর ভিসা আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে। এই কর্মসূচির আওতায় আবেদনের কোনো নির্দিষ্ট ‘ক্লিক ডে’ বা সময়সীমা থাকবে না; বছরজুড়েই ইচ্ছুক প্রার্থীরা বাংলাদেশ থেকে আবেদন করতে পারবেন।
কোটা প্রথার বিস্তারিত:
ইতালি সরকার আগামী তিন বছরে (২০২৬ থেকে ২০২৮) কোটা ব্যবস্থার আওতায় মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে—
-
২০২৬ সালে: ১,৬৪,৮৫০ জন
-
২০২৭ সালে: ১,৬৫,৮৫০ জন
-
২০২৮ সালে: ১,৬৬,৮৫০ জন
সংশ্লিষ্টরা জানান, অনিয়মিত অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘দেক্রেতো ফ্লাসি’ কোটার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য একটি নির্দিষ্ট অংশ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তবে ‘আর্টিকেল ২৩’-এর অধীনে যারা যাবেন, তারা এই তিন লাখি কোটা সীমার সম্পূর্ণ বাইরে থাকবেন।
অভিবাসন নীতি ও বাংলাদেশিদের অবস্থান:
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমীন বলেন, “সরকার কর্মীদের ইতালি গমনের আগেই ‘প্রবাসী কার্ড’ দেওয়ার চেষ্টা করবে, যা তাদের রেমিট্যান্স পাঠানো ও পরিবারের সহায়তায় ভূমিকা রাখবে।” একইসঙ্গে এই ইতালীয় ভাষার প্রশিক্ষণ কারিকুলামকে দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (TTC) যুক্ত করারও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ইতালিতে আনুমানিক ২ লাখ ১৭ হাজার বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন, যার মধ্যে ৮০ হাজার জন ওয়ার্ক পারমিটধারী। ২০২৫ সালে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ইতালি থেকে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। ইতালীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ইতালির নিয়োগকর্তার ইস্যুকৃত ‘নুলা ওস্তা’ (Nulla Osta) মূলত কাজের অনুমতিপত্র; তবে চূড়ান্ত ভিসা দেওয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণভাবে ইতালি দূতাবাসের ওপরই ন্যস্ত।

