অনলাইনে গড়ে ওঠা প্রেমের টানে সিলেটের ওসমানীনগরে প্রেমিকার বাড়ীতে এসে শুভপরিণয় সম্পন্ন করেও বিপাকে পড়েছেন এক চীনা নাগরিক। স্থানীয় পর্যায়ে ওই যুবকের ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ে নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় ও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাকে সাময়িকভাবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে শ্বশুরবাড়ির জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে ওসমানীনগরের তাজপুর ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রাম থেকে লি ও ফাভিন (Li Favin) নামের ওই চীনা নাগরিককে নিরাপত্তার স্বার্থে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
অনলাইন থেকে পরিণয়:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওসমানীনগরের কাদিপুর গ্রামের ভাড়াটিয়া জামাল মিয়ার মাদ্রাসাপড়ুয়া মেয়ে ছামিয়া আক্তারের সঙ্গে চীনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় ও প্রেম গড়ে ওঠে চীনা প্রদেশ জিয়াংশির (Jiangxi) বাসিন্দা লি ও ফাভিনের। সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রায় এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশে আসেন ফাভিন এবং প্রেমিকার বাড়িতে ওঠেন।
বিষয়টি এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে সোমবার বিকেল থেকে কৌতূহলী মানুষ জামাল মিয়ার বাড়িতে ভিড় জমান। একপর্যায়ে ওই যুবকের ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ের আইনি বৈধতা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। সংবাদ পেয়ে রাত ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং তাকে নিরাপদে রাখতে থানায় নিয়ে আসে।
ধর্মান্তর ও বিয়ের কাগজপত্র হস্তান্তর:
পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর চীনা যুবক লি ও ফাভিন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও রেজিস্ট্রি বিয়ের যাবতীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তাঁর বর্তমান নাম রাখা হয়েছে ‘আব্দুল্লাহ’। আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনুসরণ করে বিয়ে করার প্রমাণ মেলার পর পুলিশ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেয়।
ওসমানীনগর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, বিদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্ত রাখতেই তাকে সাময়িক পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছিল। বিয়ের বৈধ কাগজপত্র এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সনদপত্র নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

