এক হামলায় প্রাণ গেল ৩০৮ জনের: গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ১১২ ফিলিস্তিনির মরদেহ

 

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ পৌনে তিন বছরেরও বেশি সময় পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া ১১২ জনের লাশের অংশাবশেষ একসঙ্গে দাফন করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই দৃশ্যটি ঘটেছে গাজা সিটির সাবরা এলাকায়, যেখানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ‘আল-হাসাইনা’ নামের ঐতিহ্যবাহী এক যাযাবর বা বেদুইন বংশের প্রায় পুরো পরিবারটাই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর গভীর রাতে গাজা সিটির প্রাচীন সাবরা এলাকার কয়েকটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একই বর্ধিত পরিবারের (যা আবু শারিয়া নামেও পরিচিত) ৩০৮ জন সদস্য নিহত হন। নিহতদের বড় একটি অংশ ঘটনার পরপরই দাফন করা সম্ভব হলেও ১৫৩ জনের লাশ ইট-পাথরের নিচে চাপা পড়ে ছিল।

১৭ দিনের দুঃসাধ্য উদ্ধার অভিযান

সুদীর্ঘ পৌনে তিন বছর পর ৪০ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল ১৭ দিন ধরে সাবরা এলাকার সেই ধ্বংসস্তূপে অত্যন্ত সাবধানে ও নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান চালায়। অবশেষে সেখান থেকে ১১২ জন নিখোঁজ ব্যক্তির দেহাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সমতল করা একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর সারি সারি রাখা পতাকাবৃত ১১২টি মরদেহ সাজিয়ে রাখা হয়। গাজা যুদ্ধের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় গণদাফনের ঘটনা বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

উদ্ধার হওয়া লাশের অংশগুলো চেনার জন্য পোশাক, শরীরের বিশেষ চিহ্ন, অস্ত্রোপচারের পাত কিংবা নারীদের অলংকার ব্যবহার করতে হয়েছে বলে জানান গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল।

বুকের ভেতর জমে থাকা কান্না ও ক্ষোভ

হামলায় স্ত্রী, চার ছেলে ও চার নাতি-নাতনিকে হারানো ৬৫ বছর বয়সী ওমর আল-হাসাইনা কায়রো থেকে স্যাটেলাইট টেলিভিশনে এই গণজাজা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ওই ঘটনার কিছুদিন পরই তিনি কায়রোতে চলে যান।

স্মৃতিচারণ করে ওমর বলেন, “ওরা আমার কলিজার টুকরো ছিল। দীর্ঘ তিনটি বছর আমি প্রতি রাতে স্বপ্নে তাদের দেখেছি। আজ হয়তো ওদের আত্মা শান্তি পাবে। এটি তাদের পাওনা ছিল।”

সাবরা ট্র্যাজেডির পর বেঁচে যাওয়া পরিবারের অন্যতম বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য তাইসির আল-হাসাইনা বলেন, “এই দিনটি আমাদের তিন বছর আগের সেই রক্তাক্ত ক্ষতগুলোকে আবার নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে। তবে আমাদের একমাত্র সান্ত্বনা তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে শহীদ হিসেবে গেছেন।”

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজারো মরদেহ

গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগের লাশ হাসপাতালে এনে তালিকাভুক্ত করা হলেও, অন্তত ৮ হাজার মানুষের মরদেহ এখনও উপত্যকার বিভিন্ন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র জানান, প্রয়োজনীয় এক্সকাভেটর, বুলডোজার ও ক্রেন থাকলে আগামী তিন মাসের মধ্যে গাজা জুড়ে আটকে থাকা সব লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হতো। সরঞ্জাম সংকটের কারণেই বছরের পর বছর ধরে স্বজনরা তাঁদের প্রিয়জনের মরদেহের জন্য অপেক্ষা করছেন।

 

শিরোনাম :
রাশিয়ায় পড়তে গিয়ে কফিনবন্দী হয়ে ফিরলেন এক বাংলাদেশি!!! সিরামিক শিল্পে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীকে ডিম ছুড়ে মারলেন বিরোধী এমপি মার্কিন বাজারে মন্দার মধ্যেও শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ: চীন-ভারতের বড় পতন ঘরভাড়ার ৫০০ টাকা জোগাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন মা ‘খেলাধুলায় মাদকমুক্ত সমাজ, তৃণমূল থেকে প্রতিভা খুঁজতে চাই’: আমিনুল হক মাঠের প্রতিবাদ থেকে নতুন পরিচয়, ইরানের দুই নারী ফুটবলার পেলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব  ধ্রুবতারার বিদায়, মহাতারকা লিওনেল মেসির ছায়াসঙ্গী বাবার প্রয়াণ আমিরাতে হঠাৎ ভিসা বাতিলের ঘটনায় প্রবাসীদের সতর্ক করল বাংলাদেশ দূতাবাস নাসার মহাকাশ গবেষণার নেতৃত্বে এক বাংলাদেশি, জেমস ওয়েবের পর এবার রোমান টেলিস্কোপ রাশিয়ায় পড়তে গিয়ে কফিনবন্দী হয়ে ফিরলেন এক বাংলাদেশি!!! সিরামিক শিল্পে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীকে ডিম ছুড়ে মারলেন বিরোধী এমপি মার্কিন বাজারে মন্দার মধ্যেও শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ: চীন-ভারতের বড় পতন ঘরভাড়ার ৫০০ টাকা জোগাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন মা ‘খেলাধুলায় মাদকমুক্ত সমাজ, তৃণমূল থেকে প্রতিভা খুঁজতে চাই’: আমিনুল হক মাঠের প্রতিবাদ থেকে নতুন পরিচয়, ইরানের দুই নারী ফুটবলার পেলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব  ধ্রুবতারার বিদায়, মহাতারকা লিওনেল মেসির ছায়াসঙ্গী বাবার প্রয়াণ আমিরাতে হঠাৎ ভিসা বাতিলের ঘটনায় প্রবাসীদের সতর্ক করল বাংলাদেশ দূতাবাস নাসার মহাকাশ গবেষণার নেতৃত্বে এক বাংলাদেশি, জেমস ওয়েবের পর এবার রোমান টেলিস্কোপ
DGEN NEWS
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.