আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, তা নির্ধারণে একাধিক বিকল্প প্রস্তাব এসেছে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির বৈঠকে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে সংসদের উচ্চকক্ষের ভাইস প্রেসিডেন্ট, সরকার ও বিরোধী দলের সর্বসম্মত স্পিকার কিংবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে মনোনীত কোনো নিরপেক্ষ প্রতিনিধিকে দায়িত্ব দেওয়ার ভাবনা। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শেষে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তত্ত্বাবধায়ক প্রধানের দৌড়ে যেসব বিকল্প প্রস্তাব:
বৈঠকে উপস্থিত সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার গঠনপ্রক্রিয়া ও কাঠামো নিয়ে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব জমা পড়েছে:
-
উচ্চকক্ষের ভাইস প্রেসিডেন্ট: সংসদে যদি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এবং নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার পরও উচ্চকক্ষ বহাল থাকে, তবে সেই উচ্চকক্ষের ভাইস প্রেসিডেন্টকে অন্তর্বর্তীকালীন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
-
সর্বসম্মত স্পিকার: সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ সম্মতিতে নির্বাচিত জাতীয় সংসদের স্পিকারকে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান।
-
উভয় পক্ষের সম্মতিতে মনোনীত নিরপেক্ষ ব্যক্তি: স্পিকারের বাইরে দুই পক্ষের রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে অন্য যেকোনো যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে প্রধান উপদেষ্টা বা সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগের আইনি বিধান রাখা।
উচ্চকক্ষের রূপরেখা ও বিশেষজ্ঞ মতামত:
কমিটির সভাপতি জানান, বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, আইনের শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদসহ প্রায় ৬০ জন বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। তাদের অনেকে লিখিত প্রস্তাব জমা দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লিখিত মতামত জানাবেন।
প্রস্তাবগুলোতে সংসদের প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষে রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য সংখ্যা ৫ থেকে বৃদ্ধি করা এবং শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান গবেষণায় জাতীয় অবদান রাখা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। তবে বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে কিছুটা ভিন্নমতও পরিলক্ষিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও স্পষ্ট করেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রস্তাব ও সুপারিশমালা বিশদ পর্যালোচনার পরই কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করবে।

