ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুটা জয় দিয়েই রাঙাল বাংলাদেশ। ভুটানের বিপক্ষে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও যখন গোলের দেখা মিলছিল না, তখনই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন বদলি হিসেবে নামা মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তার একমাত্র গোলেই ভুটানকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। তবে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা।
এদিন চমক ছিল বাংলাদেশের একাদশ ও কৌশলেও। নিয়মিত রাইট-ব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষকে আক্রমণভাগে ‘নাম্বার নাইন’ পজিশনে খেলান কোচ টমাস ডুলি। একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি বিশ্বনাথ।
অন্যদিকে, ম্যাচের আগে গা-গরমের সময় অসুস্থ বোধ করায় শুরুর একাদশে ছিলেন না নতুন অধিনায়ক তপু বর্মন। তবে জামাল ভূঁইয়া ও শমিত সোমদের দাপুটে ফুটবলে প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতেই।
বিরতির পরও কাঙ্ক্ষিত গোল না আসায় ৬৩তম মিনিটে জোড়া পরিবর্তন আনেন কোচ। জামাল ভূঁইয়া ও বিশ্বনাথ ঘোষের জায়গায় মাঠে নামেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও সোহেল রানা জুনিয়র।
আর এই পরিবর্তনই বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র। মাঠে নামার মাত্র দুই মিনিটের মাথায় শমিত সোমের হেড থেকে ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে আসা বল দুর্দান্ত ভলিতে জালে জড়ান ইব্রাহিম। ৬৫তম মিনিটের সেই গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি।
এর আগে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা ওঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের। সংগীত, নৃত্য ও আতশবাজিতে রঙিন হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। উদ্বোধনী ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে জয় দিয়ে আসর শুরু করে ভারত।
এদিকে, ভুটানের বিপক্ষে সাফের ইতিহাসে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করল বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতায় দুই দলের আট দেখায় এটি বাংলাদেশের সপ্তম জয়, বাকি ম্যাচটি হয়েছিল ড্র।
২০০৩ সালের পর আবারও সাফের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের এই জয় সেই স্বপ্নের পথে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে নিঃসন্দেহে। এবার বাংলাদেশের সামনে শ্রীলঙ্কা।

