আমরা কেউ চিরদিন থাকব না, কিন্তু এ দেশ এবং এর মানুষ থাকবে; তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে আগামী ৫০ বছরের চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন ঘটাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে প্রদান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তবে একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক আর্থিক সঙ্গতির বিষয়টিও বাস্তবসম্মতভাবে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিভিডি) ‘ফার্স্ট ওপেন হার্ট সার্জারি ডে’ এবং ‘কারডিওভাসকুলার সার্জিক্যাল কনফারেন্স অফ এনআইসিভিডি-২০২৭’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কার্ডিয়াক চিকিৎসা ও ট্যাক্স ছাড়
মন্ত্রী বলেন, দেশে হৃদরোগ ও জন্মগত হৃদরোগের হার দিন দিন বাড়ছে। এটি কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে উৎপাদনশীল কর্মক্ষম জনসংখ্যার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।
-
ভালভ ও রিংয়ে ছাড়: সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চিকিৎসাসেবা রাখতে সরকার ইতোমধ্যে হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ভালভ ও স্টেন্ট (রিং)-এর ওপর ট্যাক্স মওকুফ করেছে।
-
সামাজিক নিরাপত্তা: সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে বর্তমান সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
-
জাপানের প্রতি কৃতজ্ঞতা: বাংলাদেশে প্রথম দিককার দক্ষ কার্ডিয়াক সার্জন তৈরিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ায় বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র জাপানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মন্ত্রী।
চিকিৎসা খাতের অগ্রগতি ও বাজেট
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়ের অনিয়ম কাটিয়ে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করেছে এবং বর্তমানে দেশেই হৃদরোগের উন্নত সব চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
এর আগে মন্ত্রী প্রাঙ্গণে একটি র্যালিতে অংশ নেন এবং নিমগাছের চারা রোপণ করেন।
দেশে ‘ওপেন হার্ট সার্জারি ডে’-র প্রেক্ষাপট
১৯৫৩ সালে ডা. জন হেইশাম গিবন বিশ্বে প্রথম ওপেন হার্ট সার্জারি শুরু করলেও, বাংলাদেশে ইতিহাস রচিত হয় ১৯৮১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। ওই দিন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে (এনআইসিভিডি) কার্ডিও-পালমোনারি বাইপাসের মাধ্যমে দেশে প্রথম সফল ওপেন হার্ট সার্জারি সম্পন্ন হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই অনন্য সাফল্য স্মরণে প্রতিবছর ১৮ সেপ্টেম্বরকে ‘ফার্স্ট ওপেন হার্ট সার্জারি ডে’ হিসেবে পালন করা হয়।

