ভারতের মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র দিবেগার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে সাগরের উত্তাল স্রোতে ভেসে গিয়ে ১৬ বছর বয়সী ৮ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
নিহত শিক্ষার্থীরা পুণে জেলার আলান্দির বেসরকারি কোচিং সেন্টার ‘উইনার্স অ্যাকাডেমি’-র শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষাসফর ও আনন্দভ্রমণের অংশ হিসেবে কোচিং সেন্টারটির ৪৮ জনের একটি দল পুণে থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে দিবেগারে গিয়েছিল।
ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ২৫ জন ছাত্র, ১৭ জন ছাত্রী এবং ৬ জন শিক্ষকসহ পুরো দলটি সমুদ্রসৈকতে অবস্থান করছিল। এ সময় ৮ শিক্ষার্থী উৎসাহী হয়ে সাগরে নামেন। তবে সমুদ্রের গভীরতা ও জোয়ারের তীব্র স্রোত বুঝতে না পেরে তারা মুহূর্তের মধ্যেই সাগরের গভীরে তলিয়ে যান।
-
সাহসী উদ্ধার তৎপরতা: ঘটনাটি জানার পরপরই স্থানীয় ওয়াটার স্পোর্টস ব্যবসায়ী ভাউ মারুতি সালুনখে ও তাঁর দল নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামেন। তারা সাগরে নেমে তলিয়ে যাওয়া ৮ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন।
-
পুলিশি পদক্ষেপ: পরবর্তীতে দিঘি সাগরি বোরলি পঞ্চতান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো হেফাজতে নেয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠায়।
নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন—তন্ময় দত্তাত্রেয় ভাহিলে, সুমিত ভারত আহিরে, প্রণব রামদাস বানসোদে, কৈবল্য সতীশ ওয়াসানকার, রাজবীর যুবরাজ ভাহিলে, যশ কিরণ ওয়াংখেড়ে, সোহম তুকারাম ভান্ধওয়ালকর এবং কৌস্তুভ সন্দীপ দৌন্ড।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের নির্দেশ:
ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাদনাভিস এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে একে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক’ বলে অভিহিত করেছেন। নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী গিরিশ মহাজন ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টারটিকে জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা সফরের জন্য অতি শিগগিরই নতুন কঠোর নিরাপত্তা নির্দেশিকা জারি করা হবে বলে জানান তিনি।

