শিক্ষা খাতে সরকারি বরাদ্দ ও বাজেট কাটছাঁটের প্রস্তাবের প্রতিবাদে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজপথ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সেন্ট্রাল সান্তিয়াগোতে পুলিশ ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্তের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ২০২৭ সালের প্রাথমিক বাজেট প্রস্তাব পেশ করার একদিন পরই শিক্ষার্থীদের মূল ইউনিয়নগুলোর আহ্বানে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসেন।
সংঘর্ষ ও পুলিশের টিয়ারশেল নিক্ষেপ:
-
প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে পদযাত্রা: আন্দোলনকারীরা সান্তিয়াগোর ঐতিহাসিক ‘প্লাজা ইতালিয়া’য় একত্রিত হয়ে লা আলামেদা সড়ক ধরে প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও কার্যালয় ‘লা মোনেদা’-র দিকে এগোতে থাকেন। তবে প্রায় ৮০০ মিটার অতিক্রম করার পর চিলির জাতীয় পুলিশ তাদের গতিরোধ করে।
-
টিয়ারশেল ও জলকামান প্রয়োগ: মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ শুরু করলে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, বোতল ও কাঠের লাঠি নিক্ষেপ করে।
-
গ্রেপ্তার ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া: দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব জানান, দিনভর চলা আন্দোলন ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও পাল্টা হামলা:
চলতি বছরের মার্চে ক্ষমতা গ্রহণ করা কনজারভেটিভ প্রেসিডেন্ট কাস্তে ব্যয় সংকোচনের নীতি জোরদার করলেও, আন্দোলন তীব্র হওয়ায় ৬ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষা সুবিধা বহাল রাখার কথা জানিয়েছেন। তবে শিক্ষার্থী নেতাদের দাবি, বাজেটে সার্বিক শিক্ষা খাতের সরকারি বরাদ্দ মারাত্মক হুমকির মুখে রাখা হয়েছে।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে পন্টিফিক্যাল ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটির মূল ক্যাম্পাসের কাছে মুখোশধারী একদল আন্দোলনকারী সরকার সমর্থক শিক্ষার্থীদের পাল্টা সমাবেশে হামলা চালায়। সরকারপন্থীরা ‘আমরা অচল চিলি চাই না, সমৃদ্ধ চিলি চাই’ লেখা ব্যানার নিয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট কাস্তে নিজ রাজনৈতিক মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার কঠোর নিন্দা জানান।
শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেট বিলটি আলোচনার জন্য কংগ্রেসে উত্থাপিত হলে তারা দেশজুড়ে আরও কঠোর ও আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

