ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ব্যাপক প্রাণহানি ও ফ্লাইট স্থবিরতার ঘটনা ঘটলেও, হামলার আগ মুহূর্তে সাধারণ নাগরিকদের জন্য কোনো সতর্কবার্তা (অ্যালার্ট) জারি করেনি সৌদি কতৃপক্ষ। সরকারের পক্ষ থেকে আগাম সতর্কবার্তা না দেওয়ার ফলে নাগরিক ও প্রবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়টি চরম ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সংবাদ সংস্থাটির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইরান ও হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে দেশের ভেতরের ‘স্বাভাবিক ও শান্ত চিত্র’ বজায় রাখতেই আগাম সতর্কবার্তা বন্ধ রেখেছিল রিয়াদ। সরকারের নীতি ছিল একদিকে সামরিক অভিযান চালানো, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়ানো থেকে বিরত থাকা। কিন্তু গত সপ্তাহে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া চার-চারটি মারাত্মক হামলার ঘটনায় কোনো আগাম অ্যালার্ট না থাকায় সরকারের এই ‘শান্ত ভাবমূর্তি’ ধরে রাখার পদ্ধতি নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে।
আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রাক্তন মার্কিন কূটনীতিক মাইকেল র্যাটনির মতে, দেশে বিশৃঙ্খলা ঠেকানো ও জনসংযোগ বজায় রাখার এই চেষ্টা উল্টো জনগণের মাঝে অস্বস্তি ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। সৌদি সিভিল ডিফেন্স বিরূপ আবহাওয়া কিংবা সাইরেন সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়মিত সতর্কবার্তা জারি করলেও সামরিক হামলা কেন্দ্রিক জরুরি অ্যালার্ট হঠাৎ নীরব করায় পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোও রিয়াদ কর্তৃপক্ষের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
এর জবাবে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ঘন ঘন জরুরি সতর্কবার্তা নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটায় এবং অনেকেই গভীর রাতে মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে সরকারের ঘনিষ্ঠ সৌদি বিশ্লেষক আলি শিহাবি জানান, দেশটি আকারে অনেক বড় হওয়ায় বিমানবন্দর, তেলক্ষেত্র ও পাইপলাইনের মতো বিশাল অবকাঠামো একই সঙ্গে শতভাগ সুরক্ষিত রাখা প্রযুক্তিগতভাবেও বেশ কঠিন। বিশাল আকাশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমারেখার কারণে প্রতিটি হামলা আটকানো কিংবা আগাম অ্যালার্ট দেওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জরুরি সতর্কবার্তা না পাওয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার তথ্য বা ছবি প্রকাশের ওপর প্রশাসনিক কড়াকড়ির ফলে বর্তমানে দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী ও স্থানীয়দের মাঝে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

