জার্মানির শ্রমবাজারে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকায় জার্মান দূতাবাসে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (BOESL)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ-এর মধ্যে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জার্মানির শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী প্রস্তুত ও প্রেরণের সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।
বাড়ছে দক্ষ কর্মীর চাহিদা
জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তন ও শিল্প খাতে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতির কারণে জার্মানি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার থেকে প্রশিক্ষিত কর্মী আকর্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বিশাল তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশটির জন্য একটি সম্ভাবনাময় জনশক্তির উৎস হতে পারে। বিওইএসএল-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, জার্মানির চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মী প্রস্তুত করতে বাংলাদেশ সক্ষম।
বাংলাদেশ যা আশা করতে পারে
উভয় দেশের শ্রমবাজারভিত্তিক সমঝোতা বাস্তবে রূপ নিলে:
-
সরকারি ব্যবস্থাপনায় দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শীর্ষ অর্থনীতিতে নিরাপদ ও স্বচ্ছ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
-
প্রশিক্ষিত জনশক্তির আন্তর্জাতিক চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈধ প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কারিগরি শিক্ষায় জার্মান অনুদান
শুধুমাত্র কর্মী পাঠানো নয়, বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতেও অবদান রাখছে জার্মানি। ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা আধুনিকায়নে ৫ মিলিয়ন ইউরোর অনুদানভিত্তিক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর লক্ষ্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করা।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, এই আলোচনা এখনই ব্যাপক ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ বা নিশ্চিত ভিসার ঘোষণা বহন করে না। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট খাত, যোগ্যতা, ভাষাজ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও ভিসা সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। তাই ইচ্ছুক কর্মীদের সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

