অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া (ডব্লিউএ) রাজ্যের জন্য চালু থাকা বর্তমান জিএসটি (পণ্য ও সেবা কর) রাজস্ব বণ্টন চুক্তিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যতদিন তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে থাকবেন, ততদিন এই নীতি বহাল থাকবে।
উদ্যোগটি বাতিলের সুপারিশ করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট প্রকাশের পর পার্থ সফরকালে তিনি এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
ঘটনার পটভূমি ও বিতর্কের কারণ
সম্প্রতি প্রোডাক্টিভিটি কমিশন একটি অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্টে ২০১৮ সালে স্কট মরিসন সরকারের আমলে কার্যকর হওয়া এই জিএসটি বণ্টন ব্যবস্থাকে একটি “ব্যয়বহুল ভুল” হিসেবে আখ্যা দেয়। রিপোর্টে বলা হয়, এই চুক্তিটি কেবল পশ্চিম অস্ট্রেলিয়াকেই সুবিধা দিচ্ছে এবং এটি বাতিল করা উচিত। কমিশনের তথ্য মতে, প্রথম ছয় বছরে এই চুক্তির কারণে ফেডারেল বাজেটের ক্ষতি হয়েছে ২৩ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ২২ বিলিয়ন ডলারই পেয়েছে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া।

কমিশনের কমিশনার অ্যাঞ্জেলা জ্যাকসন জানান, এই বর্তমান ব্যবস্থা দেশজুড়ে সমান মানের পরিষেবা দেওয়ার মূল নীতিকে ক্ষুণ্ণ করছে। অন্যান্য রাজ্যগুলোকে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সমকক্ষে আনতে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৪৭ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও ডব্লিউএ সরকারের প্রতিক্রিয়া
পার্থ সফরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেন, “পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া জাতীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে এবং তারা তাদের ‘ন্যায্য পাওনা’ (fair share) পাওয়ার যোগ্য। আমি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ডব্লিউএ-এর জিএসটি ব্যবস্থায় বিন্দুমাত্র কোনো পরিবর্তন হবে না।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ডব্লিউএ-কে দেওয়া এই অতিরিক্ত অর্থ অন্য কোনো রাজ্য বা অঞ্চলের পকেট কেটে দেওয়া হচ্ছে না, বরং এটি সরাসরি কমনওয়েলথ (কেন্দ্রীয় সরকার) বহন করছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকাশ্যে দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়ার রজার কুক। এর আগে প্রোডাক্টিভিটি কমিশনের লেখকদের তীব্র সমালোচনা করে কুক তাদের “ইস্ট-কোস্ট ক্লাউন” (পূর্ব উপকূলের ভাঁড়) বলে মন্তব্য করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর কুক বলেন, “পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যেক নাগরিক আজকের এই ঘোষণায় আশ্বস্ত ও আনন্দিত।”
অন্যান্য কার্যক্রম
জিএসটি বিতর্কের বাইরেও প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ পার্থের দক্ষিণে হেন্ডারসনে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাথে চুক্তিভুক্ত ‘AUKUS’ পারমাণবিক সাবমেরিন প্রকল্পের একটি নতুন প্রতিরক্ষা জোন (Defence precinct) উদ্বোধনের ঘোষণা দেন, যা ডব্লিউএ-কে জাহাজ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে।

