অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের নির্মাণ শিল্পে দুর্নীতি, অবৈধ লেনদেন ও মাদক পাচারের অভিযোগে মেলবোর্নে প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন ‘সিএফএমইইউ’ (CFMEU)-এর মেলবোর্ন সদর দপ্তরসহ ছয়টি স্থানে একযোগে সশস্র অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। ভিক্টোরিয়া পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল ‘টাস্কফোর্স হক’ পরিচালিত এই অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংগঠিত মোটরসাইকেল গ্যাং ‘মঙ্গলস’-এর সাবেক সহ-সভাপতি ও কনস্ট্রাকশন কনসালটেন্সি ব্যবস্থার মালিক টাইরোন বেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনৈতিক লেনদেনের অংশ হিসেবে এই তদন্ত চলছে। বেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিজের প্রতিষ্ঠানের অন্যায্য বাণিজ্যিক সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে সিএফএমইইউ-এর বর্তমান কর্মচারীদের অনৈতিক অর্থ বা উপঢৌকন দেওয়া কিংবা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

অভিযানের সময় সিএফএমইইউ-এর নিবন্ধিত চারটি গাড়ি, ১০টি মোবাইল ফোন, বেশ কিছু ল্যাপটপ, আইপ্যাড, ইউএসবি ড্রাইভ, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ওষুধ জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযান পরিচালনায় সাইবারক্রাইম ও ভিআইপিইআর (VIPER) ওর্গানাইজড ক্রাইম স্কোয়াড পুলিশকে সহায়তা দেয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন ৩৬ বছর বয়সী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক রাখা এবং ৪৬ বছর বয়সী অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে রাইফেল ও গুলি সংরক্ষণের অভিযোগ তুলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি তিনজনকে তদন্ত সাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
ইউনিয়নটির প্রশাসক মাইকেল ক্রসবি জানান, তদন্তে তারা পুলিশকে সবরকমের সহায়তা করছেন। যেকোনো অনিয়মে জড়িত কর্মচারীদের বরখাস্তের কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে, অঙ্গরাজ্যের অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে অপরাধী চক্র ও দুর্নীতির দীর্ঘদিনের অভিযোগ অনুসন্ধানে সাবেক প্রধান বিচারপতি ক্রিস্টোফার কোরাকিসের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘রয়েল কমিশন’ গঠন করেছে ভিক্টোরিয়া সরকার। পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযান ও রয়েল কমিশনের যৌথ তদন্তের মাধ্যমে নির্মাণ খাতের দুর্নীতি পুরোপুরি উপড়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রশাসন।

