অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসী জনগোষ্ঠীর আকার এবং উচ্চশিক্ষার হার রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছালেও কর্মসংস্থান, দক্ষতার উপযুক্ত স্বীকৃতি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ব্যবধানের চিত্র সামনে এসেছে।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের (এবিএস) সাম্প্রতিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশটিতে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৪ হাজার ৮৮০ জনে। শিক্ষা, দক্ষ অভিবাসন এবং পরিবার পুনর্মিলনসহ নানা সূত্রে দ্রুত বাড়ছে এই প্রবৃদ্ধি।
শিক্ষায় অনন্য কিন্তু যোগ্যতার চাকরিতে পিছিয়ে
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে শিক্ষার দিক থেকে বাংলাদেশিরা শীর্ষে অবস্থান করছেন। তবে এই শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে কর্মসংস্থানের বড় ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে:
-
শিক্ষাগত যোগ্যতা: ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী বাংলাদেশিদের ৬৮ দশমিক ৪ শতাংশের অন্তত স্নাতক বা তার চেয়ে উচ্চতর ডিগ্রি রয়েছে, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া ৮৭ দশমিক ২ শতাংশ বাংলাদেশি ইংরেজিতে ভালো কথা বলতে পারেন।
-
বেকারত্বের উচ্চ হার: বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী শ্রমশক্তির বেকারত্বের হার ৯ দশমিক ৩ শতাংশ, যা অস্ট্রেলিয়ার সামগ্রিক বেকারত্বের হারের (৫ দশমিক ১ শতাংশ) প্রায় দ্বিগুণ।
-
যোগ্যতার অমিল: বিদেশি ডিগ্রির স্বীকৃতি না পাওয়া, স্থানীয় অভিজ্ঞতার অভাব এবং ভিসার জটিলতার কারণে বাংলাদেশে শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক বা ব্যাংকার হিসেবে কাজ করা অনেকে অস্ট্রেলিয়ায় এসে ড্রাইভিং, সিকিউরিটি বা রেস্টুরেন্টের কাজে আটকে থাকছেন।
পেশাগত অবস্থান ও অর্থনৈতিক অবদান
কর্মক্ষম বাংলাদেশিদের ৭১ দশমিক ৯ শতাংশ শ্রমবাজারে সক্রিয় রয়েছেন। এর মধ্যে ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ বিভিন্ন সংস্থায় পেশাজীবী, ১৪ দশমিক ১ শতাংশ কমিউনিটি সেবায় এবং বাকিরা প্রযুক্তি, প্রকৌশল, ব্যাংকিং ও সরকারি প্রশাসনে নিয়োজিত।
বাংলাদেশিরা অস্ট্রেলীয় অর্থনীতি ও কর রাজস্বে বড় অবদান রাখার পাশাপাশি দ্বিতীয় প্রজন্মের তরুণেরা মূলধারার গণমাধ্যম, আইন ও রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করছেন।
অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
প্রতিবেদনে বাংলাদেশি কমিউনিটির কয়েকটি বড় সীমাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে:
-
নেতৃত্ব ও বিভাজন: ঐক্যবদ্ধ কাঠামোর অভাব, পেশাগত পরামর্শের ঘাটতি এবং তরুণ ও নারীদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ কম থাকা।
-
গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি: দ্য অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বাংলাদেশিদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের হার ১২ শতাংশ এবং হৃদরোগের হার ৪ দশমিক ৬ শতাংশ যা যেকোনো নির্দিষ্ট দেশভিত্তিক অভিবাসীদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
উত্তরণের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধি সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারে না। বাংলাদেশিদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমমানের ডিগ্রি পাওয়ার জন্য ব্রিজিং কোর্স, দক্ষ ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, পেশাগত মেন্টরশিপ নেটওয়ার্ক তৈরি এবং ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ প্রতিরোধে বাংলা ভাষায় সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

