অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছে দেশটির ডানপন্থী দল ‘ওয়ান নেশন’। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, অস্থায়ী গ্র্যাজুয়েট, দক্ষ কর্মী ও তাঁদের পরিবার—বিশেষ করে ফিলিপাইন ও দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা মারাত্মক সংকটের মুখে পড়তে পারেন।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দলটির প্রধান পলিন হ্যানসন নতুন এই নীতি উন্মোচন করেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী তিন বছরে অস্ট্রেলিয়ার অস্থায়ী অভিবাসী জনসংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাসন সংকট, অবকাঠামোগত চাপ ও গণপরিষেবার ওপর বোঝা কমানোর অজুহাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
অভিবাসন নীতির কঠোর প্রস্তাবনাসমূহ
ওয়ান নেশনের নতুন প্রস্তাবনায় যে বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে:
-
শিক্ষার্থী কোটা হ্রাস: আগামী তিন বছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমিয়ে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৫০ হাজারে নামিয়ে আনা।
-
গ্র্যাজুয়েট ভিসায় কড়াকড়ি: নতুন অস্থায়ী গ্র্যাজুয়েট ভিসার সংখ্যা বছরে ২০ হাজারে সীমাবদ্ধ করা (তবে স্নাতকোত্তর গবেষণা পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ছাড় পাবেন)।
-
পরিবার আনার ওপর নিষেধাজ্ঞা: অস্থায়ী দক্ষ কর্মীদের পরিবার অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসার সুযোগ সীমিত করা।
-
নেট অভিবাসন শূন্যে নামানো: প্রাথমিক তিন বছরের জন্য নেট অভিবাসন (Net Overseas Migration) শূন্যে নামিয়ে আনা এবং পরবর্তীতে বার্ষিক সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩০ হাজার সদস্যের সিলিং নির্ধারণ করা।
তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব
প্রস্তাবটি প্রকাশ পাওয়ার পরপরই দেশটির অধিকার সংগঠন, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সরকারি পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা নেটওয়ার্কের সমন্বয়ক নেস গ্যালোভা এই নীতিকে “অভিবাসীবিরোধী ও বিভাজনমূলক” হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে অস্থায়ী অভিবাসীদের বিশাল অবদানকে এখানে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। এটি অভিবাসী সম্প্রদায়গুলোকে শোষণের মুখে ঠেলে দেবে।”
অস্ট্রেলিয়ান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু ম্যাককেলার এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্ক বাটলার সতর্ক করে বলেছেন, এত বড় মাত্রায় অভিবাসী ছাঁটাই করা হলে স্বাস্থ্যসেবা, প্রবীণ সেবা (Aged care), প্রতিবন্ধী সেবা, নির্মাণশিল্প ও কৃষিখাতে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দেবে। দ্য ন্যাশনাল ফার্মার্স ফেডারেশন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এতে কৃষিপণ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়ে খাদ্যের দাম অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বেড়ে যেতে পারে।
বর্তমান অবস্থা
প্রস্তাবিত নীতিটি অস্ট্রেলিয়া সরকারের অফিশিয়াল কোনো আইন নয় এবং কার্যকর হতে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি ও বিরোধী জোট অলরেডি ওয়ান নেশনের এই কট্টর প্রস্তাবের একাধিক উপাদান প্রত্যাখ্যান করেছে।
বর্তমানে কার্যকর ভিসা নীতিতে নতুন করে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে আইনটি পাস না হলেও এই আলোচনা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

