নিউ ইয়র্ক সিটিতে নতুন গাড়ি চালানো শুরু করলে রাস্তা চেনার পাশাপাশি সেখানকার কঠিন সব ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি। গতিসীমা মেনে চলা, পার্কিংয়ের শর্ত, টোলের হিসাব ও নিয়ম ভঙ্গের জরিমানা এড়িয়ে নিরাপদ থাকার জন্য নতুন ড্রাইভারদের প্রয়োজনীয় ৭টি নির্দেশিকা তুলে ধরা হলো:
১. নির্ধারিত স্পিড লিমিট মেনে চলা:
নিউ ইয়র্ক সিটিতে সড়ক সংকেতে ভিন্ন কিছু উল্লেখ না থাকলে ডিফল্ট বা সাধারণ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ মাইল। তবে আবাসিক এলাকা ও স্কুল জোনে এই সীমার তারতম্য দেখা যায়। বিশেষ করে স্কুল জোনে ক্যামেরা স্পিড লিমিটের চেয়ে ১০ মাইলের বেশি গতিতে গাড়ি চালালে ৫০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা বা টিকিট আসতে পারে। তবে এই ক্যামেরা টিকিটে ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে কোনো পয়েন্ট কাটা পড়ে না।
২. পার্কিং সাইন ভালোভাবে পড়ে পার্ক করা:
শহরে ‘নো স্ট্যান্ডিং’, ‘নো পার্কিং’ এবং রাস্তা পরিষ্কারের ‘অল্টারনেট সাইড পার্কিং’—এ তিনটির নিয়ম ভিন্ন। রাস্তা বা সময়ভেদে সাইনে লেখা তথ্য দেখে তবেই গাড়ি রাখতে হবে। এছাড়া যেকোনো ফায়ার হাইড্র্যান্টের ১৫ ফুটের মধ্যে গাড়ি রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিয়মভঙ্গের ওপর ভিত্তি করে পার্কিং জরিমানের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
৩. উবার বা রাইড শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে ‘টিএলসি’ লাইসেন্স:
ব্যক্তিগত সাধারণ ড্রাইভার লাইসেন্স দিয়ে নিউ ইয়র্ক সিটিতে বাণিজ্যিক রাইড শেয়ারিং (যেমন: উবার বা লিফট) চালানো যায় না। এর জন্য ‘ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমুজিন কমিশন’ (TLC)-এর বিশেষ ড্রাইভার লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। এমনকি ব্যবহৃত গাড়ি ও নিবন্ধিত রাইড সংস্থার ক্ষেত্রেও টিএলসির কঠোর নির্দেশাবলী প্রযোজ্য হয়।
৪. বাধ্যতামূলক লায়াবিলিটি ইন্স্যুরেন্স নিশ্চিত করা:
নিউ ইয়র্কে প্রতিটি গাড়ির জন্য নির্ধারিত ‘লায়াবিলিটি ইন্স্যুরেন্স’ থাকা আইনি বাধ্যবাধকতা। নতুন ড্রাইভারদের ড্রাইভিং রেকর্ড ও গাড়ির মডেলের ওপর ভিত্তি করে এই ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম নির্ধারিত হয়। কোনো কোম্পানিতে পলিসি নেওয়ার আগে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের রেট তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়ন করা জরুরি।
৫. ইলেকট্রনিক টোল পাসের (E-ZPass) হিসাব রাখা:
ভেরাজানো-ন্যারোজ ব্রিজ বা কুইন্স-মিডটাউন টানেলের মতো ব্যস্ত পথগুলোতে টোল প্রযোজ্য। নিউ ইয়র্কের নির্ধারিত ‘ই-জিপাস’ (E-ZPass) ব্যবহারের মাধ্যমে ‘টোলস বাই মেইল’-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্য কম খরচে টোল দেওয়া সম্ভব। তবে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় নিজস্ব নীতি, সার্ভিস চার্জ ও মিনিমাম ব্যালেন্স নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে।
৬. আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে গাড়ি চালানো:
নিউ ইয়র্ক স্টেটের ‘ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিক্যালস’ (DMV)-এর নিয়ম অনুযায়ী, বৃষ্টি, তুষারপাত কিংবা কুয়াশার কারণে উইন্ডশিল্ড ওয়াইপার চালু করতে হলে একই সঙ্গে হেডলাইট জ্বালানো বাধ্যতামূলক। এছাড়া ভিজে যাওয়া বা বরফঢাকা পিচ্ছিল রাস্তায় চলাচলের সময় সামনের গাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন।
৭. টিকিট বা জরিমানার তারিখ খেয়াল রাখা:
যেকোনো ট্রাফিক, পার্কিং কিংবা ক্যামেরার টিকিট পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে। নিউ ইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের তথ্যমতে, কোনো টিকিট ভুল মনে হলে কিংবা বাতিল করতে চাইলে ইস্যুর ৩০ দিনের মধ্যে শুনানির আবেদন করলে অতিরিক্ত বিলম্ব ফি এড়ানো যায়। টিকিট ফেলে রাখলে মূল জরিমানের সঙ্গে বাড়তি জরিমানা যোগ হয়ে খরচ অনেক বেড়ে যেতে পারে।

