ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউয়ে মায়ের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে প্লায়ার্স (হাতুড়ি সদৃশ কাটার) দিয়ে আঘাত করে মাকে হত্যার অভিযোগে ১৭ বছরের এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত কিশোর নিজেই পুলিশে ফোন করে অপরাধের কথা স্বীকার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী নিজেকে নারী হিসেবে পরিচয় দেয় এবং বর্তমানে লিঙ্গ পরিবর্তনের চিকিৎসা গ্রহণ করছে। তার আচরণ অননুমেয়, অস্থির ও একগুঁয়ে স্বভাবের হওয়ায় কাপড় ব্যবসায়ী বাবা তার জন্য লখনউয়ে আলাদা একটি ভাড়া বাসার ব্যবস্থা করে সব খরচ বহন করছিলেন। গত সাত মাস ধরে সে বাবা-মায়ের চেয়ে আলাদা থাকত।
ঘটনার বিবরণ ও পুলিশি তদন্ত:
-
কথাকাটাকাটি ও হামলা: গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ওই কিশোর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এলে মা তাকে নিজের বাসায় স্থায়ীভাবে ফিরে আসার জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে প্লায়ার্স দিয়ে মায়ের মাথায় ও মুখে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
-
স্বীকারোক্তি ও আটক: হত্যার পরপরই সে লখনউ পুলিশের কন্ট্রোল রুমে ফোন করে নিজের অপরাধের কথা জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তসংক্রান্ত আলামত জব্দ করে এবং তাকে হেফাজতে নেয়।
লখনউয়ের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিবি) জীতেন্দ্র কুমার শ্রীবাস্তব ও অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার (এসিপি) নবরতন গৌতম জানান, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং আটককৃত কিশোরকে আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগার বা হেফাজতে নিয়ে গভীর জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

