রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেওয়া উত্তর কোরিয়ার দুই যুদ্ধবন্দিকে সিউলে পাঠানোর গোপন সমঝোতার তথ্য প্রকাশ্যে আনায় ইউক্রেনের ওপর চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ঘটনার জন্য ইউক্রেনীয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিক ক্ষমা না চাইলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং।
সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ প্রদানকালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রকাশ্যে ওই দুই উত্তর কোরীয় বন্দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর বিষয়টি ফাঁস করে দেন। বিষয়টি গোপন রাখার স্পষ্ট তাগিদ থাকা সত্ত্বেও তা জনসমক্ষে প্রকাশ করায় চরম ক্ষুব্ধ হয় সিউল।
গোপনীয়তার শর্ত ও উত্তেজনার কারণ:
-
পরিবারের সুরক্ষা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন: সিউলের ভাষ্যমতে, উত্তর কোরিয়ায় অবস্থানরত ওই দুই বন্দির পরিবারকে পিয়ংইয়ংয়ের প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা করা এবং আন্তর্জাতিক বন্দি বিনিময়ে ইউক্রেনীয় সেনাদের হস্তান্তরের ঝুঁকি এড়াতেই বিষয়টি গোপন রাখার শর্ত ছিল।
-
কিয়েভের অস্বীকার: তবে জেলেনস্কির কার্যালয় থেকে দাবি করা হয়, চুক্তিটি গোপনে রাখার বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি ছিল না।
-
‘কূটনৈতিক ভুল বোঝাবুঝি’র ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান: বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এটিকে একটি ‘কূটনৈতিক ভুল বোঝাবুঝি’ বলে অভিহিত করলেও প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে সেই ব্যাখ্যা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। লি স্পষ্ট জানান, এটি কোরিয়ান জাতি ও জনগণের মর্যাদার প্রশ্ন। ইউক্রেন কোরীয় উপদ্বীপে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত ডেকে আনার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক অবস্থান:
প্রকাশ্যে তথ্য ফাঁসের কারণে নিজ দেশেও প্রবল রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। দেশের প্রধান বিরোধী দল অভিযোগ করেছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার কৌশল হিসেবেই সরকার বন্দি হস্তান্তরের বিষয়টি গোপন রাখতে চেয়েছিল।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে শুরু থেকেই মানবিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসলেও, সরাসরি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো দেশকে অস্ত্র না দেওয়ার নীতিতেই এতদিন অটল রয়েছে সিউল। সাম্প্রতিক এই কাদা ছোড়াছুড়ির ফলে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।

