মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরুর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও চাঁদপুরের বাজারে জাতীয় মাছ ইলিশের আকাশচুম্বী দামে হাত দিতে গিয়ে ছ্যাঁকা খাচ্ছেন ক্রেতারা। সরবরাহ কমে যাওয়ার অজুহাতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের অন্যতম প্রধান ইলিশ বিক্রয়কেন্দ্রে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) চাঁদপুরের বিখ্যাত বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ছুটির দিনে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক ক্রেতার সমাগম ঘটলেও বাজারের মাছের সরবরাহ ছিল বেশ অপ্রতুল।
বর্তমান বাজার দর ও সরবরাহের চিত্র:
-
১ কেজি সাইজ: প্রতি কেজি ২৫০০ থেকে ২৬০০ টাকা (যা সপ্তাহখানেক আগে ২১০০-২২০০ টাকায় নেমেছিল)।
-
৭০০-৮০০ গ্রাম সাইজ: প্রতি কেজি ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা।
-
৪০০-৫০০ গ্রাম সাইজ: প্রতি কেজি ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চাঁদপুর বড়স্টেশন মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার জানান, চলতি মরশুমের শুরু থেকেই নদী ও সাগরে ইলিশ প্রাপ্তি তুলনামূলক কম। গত মাসে কিছুটা সরবরাহ বাড়লেও গত কয়েকদিনে তা আবার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। শুক্রবার পুরো অবতরণ কেন্দ্রে মাত্র ২৫০ মণ ইলিশ এসেছে, যা সাপ্তাহিক ছুটির দিনের চাহিদার তুলনায় একেবারেই নগণ্য।
সংকটে জেলেরা, নিষেধাজ্ঞার আগে কমার সুযোগ নেই:
স্থানীয় ব্যবসায়ী আলম খান ও জেলে আব্দুর রহমান জানান, আগামী ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে সাগরে থাকা অনেক ট্রলার ও নৌকা এখন কূলে ফিরতে শুরু করেছে। নদীতেও প্রত্যাশা অনুযায়ী মাছ মিলছে না। ফলে আগামী ৮ অক্টোবরের আগে ইলিশের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিতে, জীবিকার দুশ্চিন্তা থাকা সত্ত্বেও সরকারি সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় জেলেরা।
মৎস্য দপ্তরের প্রস্তুতি:
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইলিশের সর্বোচ্চ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন পদ্মা-মেঘনায় সব ধরনের মাছ ধরা, কেনাবেচা ও পরিবহন বন্ধ থাকবে। এই সময়ে চাঁদপুরের সব বরফকল বন্ধ রাখার পাশাপাশি বহিরাগত জেলেদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ৮-৯টি খালের মুখ সাময়িকভাবে বন্ধ এবং কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

