তৃতীয় উইকেটে ৭০ রানের জুটি ভেঙে পাঁচ বলের ব্যবধানে দুই উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। তাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও চলে এসেছিল টাইগারদের হাতে। তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পঞ্চম উইকেটে রহমত শাহ ও ইকরাম আলিখীলের দৃঢ় প্রতিরোধে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আফগানিস্তান। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় দিন শেষে ভালো অবস্থানে রয়েছে স্বাগতিকরা।
দিনের খেলা শেষে ৪ উইকেটে ২১১ রান সংগ্রহ করেছে আফগানিস্তান। ৮৪ রানে অপরাজিত রয়েছেন রহমত শাহ। অন্য প্রান্তে ২৬ রান নিয়ে তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন ইকরাম আলিখীল। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে এখনও ১৩৫ রানে পিছিয়ে থাকলেও আফগানদের হাতে রয়েছে ৬ উইকেট।
বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা সতর্কভাবেই করেছিল আফগানিস্তান। তবে নতুন বলে বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে খুব একটা স্বস্তিতে ছিলেন না স্বাগতিক ব্যাটাররা। দলীয় ৩০ রানে প্রথম উইকেট হারায় আফগানরা। ৩১ বলে ১৭ রান করা সেদিকুল্লাহ আতালকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন হাসান মাহমুদ।
এরপর আব্দুল মালিকের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন শহিদুল্লাহ। কিন্তু ৪৪ বলে ২০ রান করে এবাদত হোসেনের শিকার হন তিনি। ৬৪ রানে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
সেখান থেকে তৃতীয় উইকেটে ৭০ রানের জুটি গড়ে আফগানিস্তানকে ম্যাচে ফেরান আব্দুল মালিক ও রহমত শাহ। চা বিরতির পর সেই জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন এবাদত। ১২০ বলে ৬২ রান করা মালিককে ফিরিয়ে দেন এই পেসার।
এরপর দ্রুতই আরও একটি উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ব্যাট করতে নেমে রানের খাতা খুলতে পারেননি আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদি। মেহেদি হাসান মিরাজের বলে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন তিনি। মাত্র পাঁচ বলের ব্যবধানে দুই উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে আফগানিস্তান।
তবে এরপর বাংলাদেশের বোলারদের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান রহমত শাহ ও ইকরাম আলিখীল। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের বোলারদের হতাশ করেন তারা। বারবার বোলিং পরিবর্তন করেও এই জুটি ভাঙতে পারেননি টাইগার অধিনায়ক।
১১২ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করা রহমত দিন শেষে অপরাজিত থাকেন ৮৪ রানে। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন ২৬ রানে অপরাজিত থাকা ইকরাম। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আর কোনো উইকেট না হারিয়েই দিনের খেলা শেষ করে আফগানিস্তান।
এর আগে প্রথম দিনের ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। তবে শেষ দুই উইকেটে মাত্র ২৯ রান যোগ করতে পারে টাইগাররা। ফলে প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
দ্বিতীয় দিন শেষে রানের হিসাবে এগিয়ে থাকলেও আফগানিস্তানের প্রতিরোধে কিছুটা অস্বস্তিতে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের শুরুতে দ্রুত উইকেট তুলে নিতে না পারলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে নিতে পারে স্বাগতিকরা।

