অতিরিক্ত ওজন কমাতে কিংবা মেদ ঝরাতে লাইফস্টাইল ও খাদ্যাভ্যাসে প্রতিনিয়ত নানা পরিবর্তন আনেন অনেকেই। তবে নিয়মিত তালিকার সাধারণ পানীয়ের বদলে সঠিক নিয়ম মেনে ‘ব্ল্যাক কফি’ পান করলে তা ওজন নিয়ন্ত্রণে আশ্চর্যজনক ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান পুষ্টিবিদরা।
ব্ল্যাক কফিতে উপস্থিত উপাদান শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া বাড়িয়ে দ্রুত চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে। তবে ওজন কমানোর লক্ষ্য অর্জন করতে হলে তা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ব্ল্যাক কফি খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সময়সূচি:
-
দুধ ও চিনি বর্জন: ব্ল্যাক কফিতে কোনো অবস্থাতেই দুধ, ক্রিম, চিনি বা কৃত্রিম মিষ্টি যোগ করা যাবে না। খাঁটি ব্ল্যাক কফিতে ক্যালোরির পরিমাণ প্রায় শূন্য থাকে, যা মেদ ঝরাতে সাহায্য করে।
-
সঠিক সময়: সকালের নাশতার পর থেকে দুপুরের খাবারের মধ্যবর্তী সময়—অর্থাৎ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে ব্ল্যাক কফি খাওয়ার উপযুক্ত সময়। এটি দীর্ঘ সময় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে।
-
ওয়ার্কআউটের পূর্বে: ব্যায়াম বা শরীরচর্চা শুরু করার ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে এক কাপ ব্ল্যাক কফি পান করলে ওয়ার্কআউটের সময় ‘ফ্যাট বার্নিং’ বা চর্বি ঝরার হার বহুগুণ বেড়ে যায়।
-
বিকেলের পর পরিহার: বিকেল ৪টার পর বা রাতে ঘুমানোর আগে ব্ল্যাক কফি পান করা বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় কফিনের প্রভাবে ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
-
নির্ধারিত পরিমাণ: দিনে সর্বোচ্চ ১ থেকে ৩ কাপ ব্ল্যাক কফি পান করা নিরাপদ। পরিমাণের বেশি কফি খেলে অ্যাসিডিটি বা বুক ধড়ফড় করার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অতিরিক্ত টিপস:
শরীরের মেটাবলিজম আরও বাড়াতে কফির সঙ্গে সামান্য দারুচিনি গুঁড়ো বা কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, শুধু ব্ল্যাক কফি খেলেই রাতারাতি ওজন কমবে না; কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে কফির পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা আবশ্যক।

