ব্রিটেনে বাংলা গণমাধ্যম ও কমিউনিটির উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘মিডিয়া এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন দুই বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ জুবায়ের ও আ স ম মাসুম। চতুর্থ ব্রিটিশ বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ আয়োজনে বার্মিংহামের অভিজাত নিউ বিংলে হলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন বার্মিংহাম মেইলের সম্পাদক গ্রায়াম ব্রাউন। উক্ত অনুষ্ঠানে ব্যবসা, গণমাধ্যম, পেশাগত দক্ষতা ও কমিউনিটি সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য মোট ২১ জন সফল ব্রিটিশ বাংলাদেশি ও বিভিন্ন ব্রিটিশ ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া ব্রিটেনের ১৫টি সফল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেও বিশেষ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। আয়োজনের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান ড. মিছবাউর রহমান বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে এই দুই সাংবাদিক ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির সমস্যা, সম্ভাবনা ও সাফল্যের নানা দিক তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কার্যক্রমেও তাদের অবদান অনস্বীকার্য। স্বেচ্ছাসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্থান পেয়েছেন বিশিষ্ট ১০১ জন স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে প্রকাশিত একটি গ্রন্থেও।
মুহাম্মদ জুবায়ের প্রায় দুই দশক ধরে টেলিভিশন সম্প্রচার, সাংবাদিকতা ও কমিউনিটি নেতৃত্বে সক্রিয় রয়েছেন। ১৯৯৬ সালে ঢাকার প্রেস ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি হয় তার। পরবর্তী সময়ে ব্রিটেনে বিবিসি একাডেমি, গার্ডিয়ান মাস্টারক্লাস এবং চ্যানেল ফোর থেকে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণসহ নানা বিষয়ে পেশাগত প্রশিক্ষণ নেন। ২০০৬ সালে চ্যানেল এস-এ যোগ দিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর কাজ করেছেন তিনি। এ সময় চিফ রিপোর্টার হিসেবে তিনি ব্রিটেনের জাতীয় রাজনীতি, অভিবাসন এবং সামাজিক সংকট নিয়ে কাজ করেছেন। এছাড়াও ‘রিয়েলিটি উইথ মাহি’ অনুষ্ঠানের প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সাংবাদিকতা জীবনে তিনি গর্ডন ব্রাউন, ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে, বরিস জনসন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। রাজপরিবারের বিভিন্ন অনুষ্ঠান কাভার করার পাশাপাশি করোনাকালে ব্রিটিশ কারি শিল্পের সংকট নিয়ে প্রতিবেদন করে ২০২১ সালে ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডসে বিশেষ স্বীকৃতি পান। তিনি ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার ১০০’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এছাড়া লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবে ২০০৩ সাল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সাল থেকে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়রের দপ্তরে বিএএমই মিডিয়া ও কমিউনিটি কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি। রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রিন্স অব ওয়েলস থাকাকালীন সময় এবং রানি ক্যামিলাসহ রাজপরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানও কাভার করেছেন।
আ স ম মাসুম আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতায় যুক্ত রয়েছেন। ২০০০ সালে দৈনিক প্রথম আলোয় কাজ শুরুর পর ২০০৩ সালে চ্যানেল এস বাংলাদেশে প্রযোজক হিসেবে যোগ দেন এবং পরে সিলেট ব্যুরোপ্রধানের দায়িত্ব পান। ২০০৬ সালে ব্রিটেনের চ্যানেল এস-এ সিনিয়র প্রযোজক হিসেবে যোগ দিয়ে ‘চ্যানেল এস স্টার’ রিয়েলিটি শো-এর সহপ্রযোজক ছিলেন তিনি। ২০১০ সাল থেকে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি বাংলা টিভির হেড অব প্রোগ্রাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০১৫ সাল থেকে ইকরা টিভি ও আল খায়ের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিশ্বের ৬০টির বেশি দেশে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি। ২০১২ সালে রানার টিভি প্রতিষ্ঠার পর ২০১৯ সাল থেকে একে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম হিসেবে নতুন রূপ দেন। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবে টানা ১১ বছর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ২০১৮ সালে ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এছাড়া একই বছর ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন থেকে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। ২০২৫ সালে রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে সেরা অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে সেরা মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার এবং ২০২৬ সালে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সেরা অনলাইন রিপোর্টার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এছাড়া ২০১৬ সাল থেকে তিনি নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বর্তমানে তিনি ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এবং ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। ২০১৯ সালে নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্রিটেনসহ বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য একটি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলেন।

