গৃহহীনদের বাধ্যতামূলক চিকিৎসার পথ প্রশস্ত করলেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষরের এক বছর পর, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সংস্থাগুলো অঙ্গরাজ্যগুলোকে গৃহহীন ব্যক্তিদের জন্য বাধ্যতামূলক বা সিভিল কমিটমেন্ট ব্যবস্থা প্রসারের অনুমতি দিচ্ছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো মানসিক অসুস্থতা বা মাদকাসক্তিতে ভুগছেন এমন গৃহহীন ব্যক্তিদের রাস্তা থেকে সরিয়ে আনা। তবে এই নীতি বর্তমানে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

ট্রাম্পের এই আদেশে বলা হয়েছে, অতীতের নীতিগুলো গৃহহীনতার মূল কারণগুলোকে উপেক্ষা করেছে এবং জননিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করেছে। এর প্রেক্ষিতে বিচার বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এমন অঙ্গরাজ্যগুলোকে অর্থায়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যারা বিপজ্জনক বা নিজেদের যত্ন নিতে অক্ষম এমন গৃহহীনদের বাধ্যতামূলক মানসিক চিকিৎসার আওতায় আনছে। ইউটা অঙ্গরাজ্য সম্প্রতি ৪৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন অনুমোদন করেছে, যা মূলত গৃহহীনদের পুনর্বাসনে ব্যয় করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, গৃহহীনদের দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক আশ্রয়ে রেখে মানবিক চিকিৎসার মাধ্যমে জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। এছাড়া, যেসব শহর বা অঙ্গরাজ্য রাস্তায় ক্যাম্পিং, স্কোয়াটিং এবং মাদক সেবন নিষিদ্ধ করেছে, তাদের অর্থায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ন্যাশনাল ড্রাগ কন্ট্রোল পলিসি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী গৃহহীনদের ৩০ শতাংশ গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এবং দুই-তৃতীয়াংশ মাদকাসক্তি বা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত। এই কঠোর অবস্থানের ফলে রিপাবলিকান শাসিত বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য গৃহহীনদের ক্যাম্পিং নিষিদ্ধ বা তাদের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের আইন পাস করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ইউটা অঙ্গরাজ্য গৃহহীনদের তত্ত্বাবধানের জন্য নতুন আইন করেছে, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের এক বছরের জন্য প্রবেশন ও প্যারোলে রাখা হবে। যারা এই প্রোগ্রাম শেষ করবে তাদের অপরাধের রেকর্ড মুছে ফেলার সুযোগ থাকবে, অন্যথায় জেল খাটার ঝুঁকি থাকবে।

এই নীতির কড়া সমালোচনা করেছে ন্যাশনাল হোমলেসনেস ল সেন্টার, যারা একে 'অত্যন্ত নিষ্ঠুর' হিসেবে অভিহিত করেছে। লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রি এই আদালতের উদ্যোগকে সমর্থন করে বলেছেন, এটি রাস্তা থেকে গৃহহীনদের সরিয়ে তাদের জন্য উপযুক্ত স্থানে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। তবে শাইনা বেসোনেট নামের এক ভুক্তভোগী, যিনি ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গৃহহীন ছিলেন, তিনি লুইজিয়ানার আইন প্রণেতাদের সামনে বলেছেন, শুধু গৃহহীন হওয়ার কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া সমস্যার সমাধান নয়, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।

সিসিরো ইনস্টিটিউটের পলিসি ডিরেক্টর ডেভন কার্টজ জানিয়েছেন, এই নির্বাহী আদেশ ও বিচার বিভাগের আইনি মতামতের ফলে অঙ্গরাজ্যগুলো এখন মানসিক চিকিৎসায় অনেক বেশি স্বাধীনতা পাচ্ছে। তবে বাজেলন সেন্টার ফর মেন্টাল হেলথের জেনিফার ম্যাথিস সতর্ক করে বলেছেন, বাধ্যতামূলক চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী আবাসনের চেয়ে ব্যয়বহুল হতে পারে এবং এটি শেষ অবলম্বন হিসেবে থাকা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, এই আদেশ এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছে যেখানে আবাসনকে সমাধান হিসেবে দেখার চেয়ে জোরপূর্বক চিকিৎসার দিকে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসন দাবি করেছে যে ট্রাম্পের এই আদেশের ফলে নেশাগ্রস্ত ও মানসিক রোগীদের সহায়তায় প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন হয়েছে। আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের (HUD) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে গৃহহীনতা মোকাবিলায় 'হাউজিং ফার্স্ট' নীতি ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যা ২০০৪ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে জাতীয় কৌশল হিসেবে গৃহীত হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে ২০১৩ সালের তুলনায় গৃহহীনতা প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া HUD-এর ২০২৬ সালের বাজেটে স্থায়ী আবাসন তহবিল কমিয়ে ৩ বিলিয়ন থেকে ২.৪ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় কম। একই সাথে ২০২৬ সালের বাজেটে ১.৩ বিলিয়ন ডলার নতুন অস্থায়ী আবাসন কর্মসূচিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শিরোনাম :
পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীকে ডিম ছুড়ে মারলেন বিরোধী এমপি মার্কিন বাজারে মন্দার মধ্যেও শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ: চীন-ভারতের বড় পতন ঘরভাড়ার ৫০০ টাকা জোগাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন মা ‘খেলাধুলায় মাদকমুক্ত সমাজ, তৃণমূল থেকে প্রতিভা খুঁজতে চাই’: আমিনুল হক মাঠের প্রতিবাদ থেকে নতুন পরিচয়, ইরানের দুই নারী ফুটবলার পেলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব  ধ্রুবতারার বিদায়, মহাতারকা লিওনেল মেসির ছায়াসঙ্গী বাবার প্রয়াণ আমিরাতে হঠাৎ ভিসা বাতিলের ঘটনায় প্রবাসীদের সতর্ক করল বাংলাদেশ দূতাবাস নাসার মহাকাশ গবেষণার নেতৃত্বে এক বাংলাদেশি, জেমস ওয়েবের পর এবার রোমান টেলিস্কোপ মসজিদের মাইক অপসারণ ঘিরে বিতর্ক, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ মুসলিম নেতারা ১১ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় জনশুমারি, অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীকে ডিম ছুড়ে মারলেন বিরোধী এমপি মার্কিন বাজারে মন্দার মধ্যেও শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ: চীন-ভারতের বড় পতন ঘরভাড়ার ৫০০ টাকা জোগাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন মা ‘খেলাধুলায় মাদকমুক্ত সমাজ, তৃণমূল থেকে প্রতিভা খুঁজতে চাই’: আমিনুল হক মাঠের প্রতিবাদ থেকে নতুন পরিচয়, ইরানের দুই নারী ফুটবলার পেলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব  ধ্রুবতারার বিদায়, মহাতারকা লিওনেল মেসির ছায়াসঙ্গী বাবার প্রয়াণ আমিরাতে হঠাৎ ভিসা বাতিলের ঘটনায় প্রবাসীদের সতর্ক করল বাংলাদেশ দূতাবাস নাসার মহাকাশ গবেষণার নেতৃত্বে এক বাংলাদেশি, জেমস ওয়েবের পর এবার রোমান টেলিস্কোপ মসজিদের মাইক অপসারণ ঘিরে বিতর্ক, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ মুসলিম নেতারা ১১ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় জনশুমারি, অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক
DGEN NEWS
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.