যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর ৫৪.৮ শতাংশই মার্কিন সরকারের আর্থিক ও সামাজিক সুবিধা গ্রহণ করে জীবনধারণ করছেন। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক প্রকাশিত ১২০টি দেশের এক তালিকায় উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য। উক্ত তালিকায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের অবস্থান ১৯ নম্বরে।
প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, তালিকায় শতক হিসেবে ১ নম্বরে রয়েছে ভুটান (৮১%), এছাড়া পাকিস্তানের ৪০% এবং নেপালের ৩৪% পরিবার সরকারি সহায়তা গ্রহণ করছে। তবে এই তালিকায় প্রতিবেশী ভারতের নাম নেই।
বাস্তবতা নাকি নেতিবাচক প্রচার?
তালিকায় প্রদর্শিত সাহায্য প্রত্যক্ষ ‘নগদ অর্থ’ বা ভিক্ষা নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে প্রদত্ত ফুড স্ট্যাম্প (খাদ্য সহায়তা কার্ড), ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা (Medicaid) এবং কম খরচে আবাসন সুবিধা (Section 8)-কে এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিবাসীদের করের টাকা থেকেই মার্কিন সরকার জনকল্যাণমূলক এই সেবাগুলো প্রদান করে থাকে।
হঠাৎ এত বৃদ্ধির কারণ
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল মাত্র ৪০ হাজার, যা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজারে (প্রায় ৫৬৯% বৃদ্ধি)। নতুন আসা অভিবাসীদের বড় একটি অংশ প্রথম দুই-তিন বছর ড্রাইভিং, রাইড শেয়ারিং কিংবা রেস্তোরাঁভিত্তিক ব্যবসায় নিযুক্ত থাকেন। প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগত আয় কম থাকার কারণেই তারা নিয়মানুযায়ী সরকারের এই সামাজিক সুবিধাগুলোর আওতাভুক্ত হন।
গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্বে ঝুঁকির শঙ্কা
আমেরিকান সামাজিক নিরাপত্তা আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ‘পাবলিক চার্জ রুল’ (Public Charge Rule)-এর কারণে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের এই সুবিধা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমোদন (গ্রিন কার্ড) কিংবা মার্কিন নাগরিকত্ব লাভের আবেদনে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
দক্ষতা উন্নয়ন (যেমন: আইটি, হেলথকেয়ার বা বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স) এবং স্বাবলম্বিতা অর্জনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সরকারি সহায়তা থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রবাসী অভিবাসন বিশ্লেষকরা।

