কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির সম্ভাব্য সময় নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তাঁর ‘মৃত্যু হয়েছে’ এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পাকিস্তানজুড়ে। দীর্ঘদিন ধরে স্বজন ও আইনজীবীদের সাক্ষাৎ বন্ধ থাকায় ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা পিটিআই প্রধানের বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এই গুঞ্জনে নতুন মাত্রা যোগ করেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খান। সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, ইমরান খান আর বেঁচে নেই। দীর্ঘদিন ধরে পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়ায় এই গুঞ্জন দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ও স্বজনদের ক্ষোভ
ইমরান খানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইমরান খানের বোন, আইনজীবী ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের আদিয়ালা কারাগারে তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রীসহ পিটিআইয়ের শীর্ষ নেতারা এক হুঁশিয়ারিতে জানান, অবিলম্বে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা স্বচক্ষে যাচাই করে নিশ্চিত করতে দিতে হবে। অন্যথায় ইসলামাবাদ অভিমুখে অন্তত ২০ লাখ সমর্থক নিয়ে লংমার্চ ও বিশাল বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হবে।
সরকার ও সেনাবাহিনীর অস্বীকার
তবে পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী পিটিআইয়ের এই অভিযোগ এবং লংমার্চের হুমকিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক কৌশল বলে উড়িয়ে দিয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ইমরান খানের মৃত্যুর খবর সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তিনি সুস্থ আছেন।
সরকারের অস্বীকার সত্ত্বেও যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ইসলামাবাদের সবকটি প্রবেশপথে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে তোশাখানা ও বিভিন্ন মামলায় আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান। এর আগেও গত বছর একই ধরনের মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়ালে তাঁর বোন উজমা খানম জেলে গিয়ে দেখা করার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়েছিল। তবে এবার দীর্ঘ সময় পরিবার ও চিকিৎসকদের দেখা করার অনুমতি না দেওয়ায় পাকিস্তানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

