আগামী ৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে শুরু হতে যাচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। বিশ্বনেতারা যখন জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক শান্তি-নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসবেন, তখন এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য নিয়ে আসছে এক বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
“আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশ একদিকে থাকবে সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে, অন্যদিকে দেশের সরকারপ্রধান বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন বাংলাদেশের অবস্থান।
চার দশক পর সভাপতির আসনে বাংলাদেশ
গত ২ জুন জাতিসংঘের ১৭৯টি সদস্যরাষ্ট্রের ভোটাভুটিতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি ৯৯ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিসকে পরাজিত করেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে এই বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ৪১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কাকতালীয়ভাবে, সে সময় তাঁর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দীর্ঘ চার দশক পর আবারও সেই গৌরবময় আসনে বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর নতুন অধ্যায়
এই অধিবেশনেই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সরকারের প্রধান হিসেবে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য রাখবেন তিনি। সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদানসহ বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে তাঁর।
প্রত্যাশার কেন্দ্রে রোহিঙ্গা সংকট
অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধান এজেন্ডা হিসেবে থাকছে রোহিঙ্গা সংকট। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী সম্প্রতি পুনরায় স্পষ্ট করেছেন যে, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র সমাধান। প্রায় এক দশক ধরে চলমান এই সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে বাংলাদেশ সভাপতির দায়িত্বে থেকে আরও জোরালো অবস্থান নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে দেশের সরকারপ্রধানের বৈশ্বিক মঞ্চে উপস্থিতি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতির দায়িত্ব পালন এই দুইয়ের মেলবন্ধনে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের ভূমিকা নতুন এক কূটনৈতিক উচ্চতা ছুঁতে যাচ্ছে।

