ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও বহু বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ হলেও নেপাল সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজের জন্য তাদের কোনো বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একাধিক দেশের সহায়তার প্রস্তাবের জবাবে এ অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
চীন সীমান্তঘেঁষা রসুয়া জেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ধেয়ে আসা এ বন্যায় লোকালয় ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শত শত নাগরিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ইতোমধ্যে সিউল দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য রেসপন্স টিম পাঠিয়েছে এবং একটি দূর্যোগ ত্রাণ দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানান, “বিদেশি দেশগুলোর সহায়তার প্রস্তাব স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে বাইরে থেকে কোনো উদ্ধারকারী দল নেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে নেপালের সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে বলে নিশ্চিত করেছে। এছাড়া সিউল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে নেপালকে ১০ লাখ মার্কিন ডলার মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত দক্ষিণ কোরিয়ার ৯ জন কর্মী নিখোঁজ এবং ১০ জন আটকে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
উদ্ধার দল পাঠানোর জন্য ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ নেপাল সরকারকে অনুরোধ জানালেও কোনো উদ্ধারকারী টিম না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কাঠমান্ডু। সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশ্লেষকের মতে, তিব্বত সীমান্তবর্তী রসুয়া এলাকার কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণেই বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে সেখানে প্রবেশের অনুমতি দিতে চাচ্ছে না নেপাল। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, নিজস্ব নিরাপত্তার কথা বিবেচনা এবং উদ্ধার সক্ষমতা ভালো থাকা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

