দালালচক্র ও কিছু ট্রাভেল এজেন্সির নানা অনিয়মের কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মঙ্গলবার প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রবাসীদের স্বার্থে সরকার কাজ করবে, কোনো দালাল বা অনিয়মকারীর স্বার্থে নয়। বৈধ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের চাকরি, ভিসা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দালালদের দৌরাত্ম্য ও সরকারি দায়বদ্ধতা
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, কিছুসংখ্যক দালালচক্রের কারণে ফেক পাসপোর্ট তৈরি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আসছে, যা দেশের জন্য দুর্নাম বয়ে আনছে। বিদেশে গিয়ে কেউ যদি অপরাধ করেন বা সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অমান্য করেন, তবে তার দায়ভার সরকার নেবে না। তিনি বলেন, আপনি বিদেশে গিয়ে অপরাধ করবেন, ধরা পড়বেন আর সরকার এর দায় নেবে—এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যে দেশের আইন মানবেন না, সেখানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর সরকারকে এসে ছাড়িয়ে নিতে হবে—এমন দাবি অযৌক্তিক। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, কিছু ট্রাভেল এজেন্সি অবৈধভাবে টাকা নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে এবং সরকার কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিচ্ছে না বলে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে তিনি বলেন, ‘যেমনে-তেমনে’ কর্মী পাঠানো যাবে না; সবকিছু শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হচ্ছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকরির নিশ্চয়তা এবং অভিবাসন ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেই কর্মী পাঠানো হবে। বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির চাহিদাপত্র প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হাইকমিশন কর্তৃক ভেরিফাই করার পরেই তা গ্রহণ করা হচ্ছে। আমরা এটাকে একটা শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসছি। আমরা কবে নাগাদ পাঠাতে পারব, এই ইস্যুতে খালি একটু আপডেট নিয়ে নেই।
বোয়েসেল ও সার্বিয়া ইস্যুতে মন্ত্রীর ভাষ্য
- বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তারা প্রায় প্রস্তুত। বোয়েসেল ৮ অক্টোবরের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। তিনি প্রাইভেট এজেন্সির তুলনায় বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠাতেই বেশি আগ্রহী, কারণ এতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।
- সার্বিয়ার ভিসাপ্রাপ্তদের আন্দোলন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কিছু ট্রাভেলস এজেন্সি শত শত যুবকের কাছ থেকে ভিসা দেওয়ার নামে জনপ্রতি ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে প্রতারণা করেছে। এখন সেই এজেন্সির লোকজনই ভুক্তভোগীদের জড়ো করে আন্দোলন করছে। তিনি সাফ জানান, যাদের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সঠিক আছে, তারা ক্লিয়ারেন্স পাবেন। কিন্তু যাদের কাগজপত্র সঠিক নয়, তাদের প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
প্রশিক্ষণ ও আগামীর পরিকল্পনা
বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের যথাযথ কারিগরি ও ভাষাগত প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, কর্মীদের দক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে প্রশিক্ষণের সময়সীমা এক মাস থেকে বাড়িয়ে তিন মাস করা হবে। এতে বিদেশে গিয়ে অদক্ষতার কারণে কেউ যাতে প্রত্যাখ্যাত না হন, তা নিশ্চিত করা যাবে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, সবকিছু এখন শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হচ্ছে এবং মালয়েশিয়ার অনলাইন প্লাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএসে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হচ্ছে। এই প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং সচিব মো. মোখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এই নতুন উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ হবে বলে মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে। কর্মী নিয়োগের এই নতুন শৃঙ্খলায় সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে, প্রবাসীদের কল্যাণে সরকার কোনো প্রকার আপস করবে না এবং দালালের দৌরাত্ম্য রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের স্বার্থ এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন মন্ত্রণালয়ের প্রধান অগ্রাধিকার।

