সরকারের ঋণ নেওয়ার বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে দেশের মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুনের শেষে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়াবে প্রায় ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। দেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৫০ লাখ ধরে হিসাব করলে অর্থবছর শেষে মাথাপিছু সরকারি ঋণ দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জানান, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের মাথাপিছু সরকারি ঋণ ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা। অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের জুন শেষে এটি প্রায় ২১ হাজার টাকা বাড়তে পারে।
বৈদেশিক ঋণের পরিস্থিতি ও অর্থছাড়:
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ বেড়ে রেকর্ড ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার মধ্যে সরকারি খাতের ঋণই ৯৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। ডলারপ্রতি ১২৩ টাকা ২০ পয়সা ধরে হিসাব করলে সরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণের মাথাপিছু পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬৭ হাজার টাকা।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় হয়েছে মাত্র ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬১ শতাংশ কম। অথচ একই সময়ে আগের ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার—যা নতুন অর্থছাড়ের প্রায় ২.৪ গুণ।
অভ্যন্তরীণ উৎস ও ব্যাংক ঋণ:
বিদেশি সহায়তার ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও সরকারের নির্ভরতা বাড়ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকার প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা নিট ঋণ নিয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি। এছাড়া চলতি অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে সুদের পেছনেই ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ১৪ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞ মতামত:
সার্বিক বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, মাথাপিছু ঋণ বৃদ্ধির মানে প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তি ঋণ নয়, তবে এর দায়ভার বাজেটের ওপর পড়ে। ঋণের অর্থ অপচয় বা অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হলে ভবিষ্যতে উন্নয়ন ও জনসেবা খাতের বরাদ্দ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

